১৩ ডিসেম্বর , বুধবার, ২০১৭

শিরোনাম

> বাংলাদেশ

>> জাতীয়

 

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

৭ অক্টোবর ,শনিবার, ২০১৭ ১০:১৫:৪১

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে প্রয়োজনে একবেলা খাব: প্রধানমন্ত্রী


রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে প্রয়োজনে একবেলা খাব: প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানুষের দায়িত্ব। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর যেভাবে অত্যাচার হয়েছে, যেভাবে গণহত্যা, নারী-শিশুদের ওপর নির্যাতন হয়েছে, সেখানে তাদেরকে আশ্রয় দেওয়া আমাদের মানবিক দায়িত্ব হয়ে দাড়িয়েছিল। ১৬ কোটি মানুষ এদেশে বসবাস করছে, সেখানে আর পাঁচ-সাত লাখ লোককে আশ্রয় দিতে পারবো না? এটা আত্মবিশ্বাসের ব্যাপার। আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলেছি, প্রয়োজনে একবেলা খাব, আরেক বেলার খাবার তাদেরকে ভাগ করে দেব। 

জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান শেষে আজ সকালে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে এক বক্তৃতায় একথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সিদ্ধান্ত নিতে গেলে সেটা সঠিক হবে কিনা, সামনে কী হবে, তার চেয়ে জরুরি মুহূর্তে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গাদের ওপর যেভাবে হত্যা-নির্যাতন হচ্ছিল তাতে ওইসময় তাদেরকে আশ্রয় দেওয়া মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলেছিলাম রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে। মানবিক দিক থেকে তাদের পাশে আমরা দাঁড়িয়েছি। পরে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা এসেছে। আমাদের ধন্যবাদ দিয়েছে। '৭১ সালের কথা মনে পড়ে। আমরাও তো ভুক্তভোগী। আমাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছিল। নিঃস্ব করে দিয়েছিল। আমরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। 

তিনি বলেন, অনেকে উস্কানি দিচ্ছিল যাতে একটা যুদ্ধ বাধে। আমি সবাইকে নির্দেশ দিয়েছি কোন উস্কানিতে কান না দিতে যতক্ষণ আমি নির্দেশ না দেব। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো আওয়ামী লীগের রাজনীতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের সেই শিক্ষা দিয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপও তাদের ওপর আছে। আশা করি দ্রুত রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারবো। আমরা রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা আইডি কার্ড করছি। দ্রুতই তাদের বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হবে।

নিজের শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক কয়েক সপ্তাহ সাবধানে থাকতে বলেছেন। সেটা আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। সবাই দোয়া করবেন যাতে আবার পুরোদমে কাজ করতে পারি। বৃদ্ধ বয়সে একটু সময় তো লাগবেই। ২০ বছর আগে এই শারীরিক সমস্যা হলে হয় তো এত সময় লাগতো না।