১৩ ডিসেম্বর , বুধবার, ২০১৭

শিরোনাম

> অফবিট

 

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

১০ নভেম্বর ,শুক্রবার, ২০১৭ ২২:১৪:৩০

প্রেমিকার মগজ ভাজি করে খেল যুবক!


প্রেমিকার মগজ ভাজি করে খেল যুবক!

দিমিত্রি লুচিন



২১ বছরের রাশিয়ান যুবক দিমিত্রি লুচিনের বিরুদ্ধে তার চেয়ে ২৪ বছরের বড় প্রেমিকাকে হত্যা করে তার মগজ ভাজি করে খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই প্রেমিকার নাম ওলগা বি। এছাড়া লুচিন ওই প্রেমিকার রক্তও পান করেছে। নিজেকে সে রাক্ষস ভাবতে পছন্দ করে। অনেকবার রাক্ষস সেজে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোডও করেছে দিমিত্রি। আর নিজের ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতেই সে এই কাজ করেছে। খবর ডেইলি মিররের।

পুলিশ দিমিত্রিকে গ্রেপ্তার করেছে। 

খবরে বলা হয়েছে, দিমিত্রি উচ্চ আইকিউ সম্পন্ন একজন প্রতিভাবান কবি। জিজ্ঞাসাবাদে সে এ হত্যা নিয়ে কোন অনুশোচনাও প্রকাশ করেনি। উল্টো হত্যার কথা স্বীকার করে পুলিশকে জানিয়েছে, 'সে তার বান্ধবীর মগজের স্বাদ উপভোগ করেছে। সেটি খুবই সুস্বাদু ছিল।'

২১ বছরের দিমিত্রির সঙ্গে ৪৫ বছরের ওলগার সম্পর্ক বেশ কিছুদিনের। তারা বেশ অন্তরঙ্গ সময়ও কাটিয়েছেন। একই ছাদের নিচে থেকেছেন। 

খবরে বলা হয়েছে, লুচিন তার পুরাতন প্রেমিকার মস্তিস্ক ফাটিয়ে মগজ বের করে তা ভাজি করে খায়। এরপর রাক্ষসের মতো পানি হিসেবে পান করে সেই প্রেমিকারই রক্ত। এটা করার আগে সে তার বান্ধবীর বুকে চারবার ছুরিকাঘাত করে তাকে আধমরা করে। এরপর ওয়াইনের বোতল দিয়ে অন্তত ২৫ বার তার মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

অভিযোগে বলা হয়, হত্যার পর দিমিত্রি তার প্রেমিকার স্তন ও কান কেটে ফেলে। সেগুলোর একটি অংশ বিড়ালের খাবারের বাটিতে রাখে। অন্যগুলো তার শিকারের (প্রেমিকা) মুখের মধ্যে গুজে দেয়।

জানা গেছে, দিমিত্রি লুচিন সিরিয়াল কিলার জেফরি ধামারের একজন ফ্যান। সে জেফরিকে অনুকরণ করতো। তার মতো হওয়ার বাসনা পোষণ করতো মনে মনে। লুচিনের বিরুদ্ধে ওয়াইন বোতল দিয়ে মৃতদেহকে যৌন নির্যাতন করারও অভিযোগ উঠেছে।

দিমিত্রি পুলিশের কাছে দোষ স্বীকার করেছেন এবং কীভাবে শিকারের মাথার খুলি ভাঙার জন্য মাংস কাটারী (মাংস কাটার যন্ত্র) ব্যবহার করেছেন তা বর্ণনা করেছেন। একইসঙ্গে জানান, প্রেমিকার মগজের স্বাদ তার কাছে খুব ভাল লেগেছে এবং পরবর্তীতে এমন কাজ আরও একবার করার ইচ্ছাও তার আছে।

রাশিয়ার ভ্যালডাই থেকে আসা লুচিনকে গত ৮ মার্চ শিকারের ফ্লাটে এ হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত করা হয়।

হত্যার ছয় ঘণ্টা পর তিনি ভিকটিমের ট্যাবলেট কম্পিউটার, একটি চুলের স্প্রে এবং ১৫০ রুবল (মুদ্রা) নিয়ে ওই ফ্লাট থেকে বেরিয়ে যান।

সাবেক রাশিয়ান আর্মি সদস্য লুচিনের বিচার শুরু হবে আগামী বছর। দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। 

হত্যার বর্ণনায় জানা গেছে, ওইদিন ভিকটিমের ফ্লাটে তারা দুজন ছিলেন। রাতে তারা ওয়াইন পান করেন এবং গল্প করেন। এক পর্যায়ে প্রেমিকা ঘুমাতে গেলে লুচিন তাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার চিন্তা করেন। কারণ তার মাথায় একটা কিছু ঘুরপাক খাচ্ছিল। কিন্তু, এটা করতে গেলে ওই নারী জেগে ওঠেন এবং বাধা দেন। এরপর লুচিন ধূমপান করতে পাশের রুমে যান। সেখান থেকে ওয়াইনের একটা খালি বোতল এনে প্রেমিকার মাথায় আঘাত করেন। সে লুটিয়ে পড়লে লুচিন আবারও ধূমপান করতে যান। ফিরে এসে আহত বান্ধবীকে টেনে তুলে উপর্যুপরি বোতল দিয়ে আঘাত করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওলগা। তখন তার মাথা থেকে রক্ত গড়িয়ে মেঝে ভেসে যাচ্ছিল। কিন্তু, তখনও লুচিনের মনে কোন দয়া কাজ করেনি। তিনি আঙুলে রক্ত লাগিয়ে দরজায় একটি শয়তানের প্রতীক আঁকেন।

এরপর সে রান্নাঘর থেকে 'মাংস কাটার' এনে মাথার খুলিতে আগাত করতে থাকেন। খুলি ভেঙে মগজ বেরিয়ে আসলে লুচিন সেখান থেকে কিছুটা নিয়ে ভাজি করেন এবং তা খেয়ে দেখেন। রান্নাটা তার ভীষণ পছন্দ হয়। তখন আরও খানিকটা মগজ রান্না করে খান। এরপরই মেঝে থেকে রক্ত জড়ো করে একটি গ্লাসে তুলে তা পান করেন। এরপর দিমিত্রি তার শিকারের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করেন। আর এর মাধ্যমে নিজেকে রাক্ষস হিসেবে কল্পনা করে আত্মতৃপ্তি পান।

মনোবিদদের মতে লুচিন মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।