পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা, আটক স্বামী
পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা, আটক স্বামী

সংগৃহীত ছবি

পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা, আটক স্বামী

অনলাইন ডেস্ক

নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় গৃহকর্তা গিয়াস উদ্দিন শেখকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নরসিংদী। তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পিবিআই নরসিংদীর পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, গৃহকর্তা জিজ্ঞাসাবাদে মৌখিকভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে উপর্যুপরি পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।

পিবিআই তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও ব্যাটসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছে।

এর আগে, রোববার বেলা ১১টার দিকে বেলাব উপজেলার পাটুলী ইউনিয়নের বাবলা গ্রামের বাড়ি থেকে লাশ তিনটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন- গিয়াস উদ্দিন শেখের স্ত্রী রহিমা বেগম, দুই সন্তান রাব্বী শেখ ও রাকিবা শেখ। রহিমা বেগম এলাকায় কাপড় সেলাইয়ের কাজ করতেন। রাব্বী স্থানীয় একটি মাদরাসায় ও রাকিবা একটি বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত।

লাশ উদ্ধারের সময় নিহতের স্বামী গিয়াস উদ্দিন শেখ দাবি করেন, তিনি খবর পেয়ে গাজীপুর থেকে এসেছেন। রাতে বাড়িতে ছিলেন না। পাশের বাড়ির একজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ ছিল এবং তারাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

গিয়াস উদ্দিন শেখ বেলাব উপজেলার পাটুলী ইউনিয়নের বাবলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গাজীপুরের কাপাসিয়ার আড়াল এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টেন্ডারের মাধ্যমে রঙের কাজ করেন। তিনি বেশিরভাগ সময় গাজীপুরে অবস্থান করেন। আর দুই সন্তানকে নিয়ে রাহিমা বেগম গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। গত শনিবার বিকেলে গিয়াস উদ্দিন গাজীপুরে কর্মস্থলে যান। স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে সকালে গাজীপুর থেকে বাড়িতে যান।

স্থানীয়রা জানায়, সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় এক নারী রহিমা বেগমের বাড়িতে যান। বাইরে থেকে দরজা আটকানো দেখে বেশ কয়েকবার ডাকাডাকি করেন। সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজার নিচ দিয়ে ঘরের ভেতরে তাকিয়ে রক্ত দেখতে পান। ঐ সময় তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে জানালা ভেঙে ঘরের ভেতর লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান জানান, এরই মধ্যে কয়েকজনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পিবিআই নরসিংদীর পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, নিহতের স্বামী গিয়াস উদ্দিন কী কারণে এমনটি করেছেন তা জানার চেষ্টা চলছে। বাকিটা তদন্তের পর বলা যাবে।
news24bd.tv/আলী