ড্রেনে ফেলে পেটানো হলো ছাত্রদলের দুজনকে
ড্রেনে ফেলে পেটানো হলো ছাত্রদলের দুজনকে

সংগৃহীত ছবি

ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

ড্রেনে ফেলে পেটানো হলো ছাত্রদলের দুজনকে

অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। হামলার পর শহীদুল্লাহ হলের সামনে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। হামলা ও ধাওয়ার একপর্যায়ে শহীদুল্লাহ হলের ড্রেনে ফেলে ছাত্রদলের দুই নেতা–কর্মীকে পেটাতে দেখা গেছে। এমনকি হাসপাতালে নেওয়ার পথে আহত ওই দুজনের একজনকে রিকশা থেকে ফেলে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মী আল আমিন বাবলুকে শহীদুল্লাহ হলের ড্রেনে ফেলে পেটাতে দেখা গেছে। মারধর করার পর তাদের রিকশায় তুলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে মিনহাজুলকে রিকশা থেকেও লাথি দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরে অবশ্য একটি রিকশায় করে মিনহাজুলকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত নেতা-কর্মীদের চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করছেন ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ নেতারা৷ সেখানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, 'ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, আমি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আকতার হোসেন ও সদস্যসচিব আমানউল্লাহ আমানসহ পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে টিএসসির দিকে যাচ্ছিলাম৷ দুই দিন ধরে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসের মহড়া দিচ্ছে বলে মিছিলে আমরা কোনো স্লোগান পর্যন্ত দিইনি৷ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান করছিলেন৷ তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলি৷ বলি যে ‘আমরা তো শান্তিপূর্ণভাবে যাচ্ছি, আমাদের অপরাধটা কী?’

রাকিবুল ইসলাম আরও বলেন, বিনা উসকানিতে তারা হকিস্টিক, রড, চাপাতি, লাঠিসোঁটাসহ দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেন৷ হামলায় কেন্দ্রীয় নেতা রাশেদ ইকবাল খান, আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়াসহ অন্তত ৩০ জন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন৷

ছাত্রদল বলছে, শহীদ মিনারের সামনে হামলার ঘটনায় তাদের অন্তত ৩০ জন নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। সেখানে হকিস্টিক, রড, চাপাতি ও দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রদল জানিয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মানসুরা আলমও রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদের এক বক্তব্যের পর গত রোববার সন্ধ্যায় টিএসসি এলাকায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর ওপর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা করেন।

ওই ঘটনার প্রতিবাদ ও সাইফ মাহমুদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। সেখানে যাওয়ার পথেই তাঁদের ওপর হামলা হয়। পরে আবার শহীদুল্লাহ হলের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়।

ছাত্রদলের ওপর এই হামলাকে 'প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন৷ তিনি বলেন, রাজাকারদের তল্পিবাহক ও সন্ত্রাসের ডিস্ট্রিবিউটর ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল তাদের সহিংস সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ বিঘ্নিত করছে৷ এর ধারাবাহিকতায় দেশি অস্ত্র নিয়ে তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার চেষ্টা করেছে৷ শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করার স্বার্থে সব মতের প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ছাত্রদলের সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে৷

news24bd.tv/আলী