মানুষের প্রস্রাব থেকে বিয়ার, চাহিদাও ব্যাপক
মানুষের প্রস্রাব থেকে বিয়ার, চাহিদাও ব্যাপক

মানুষের প্রস্রাব থেকে বিয়ার, চাহিদাও ব্যাপক

অনলাইন ডেস্ক

গোমূত্র ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এমন দাবি করে ভারতের বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দক্ষিণবঙ্গ প্রান্তের সহসম্পাদক কুশল কুণ্ডু। আরও দাবি করা হয় জন্ডিসের মতো রোগ ঠেকানো যায় এ গোমূত্রে। এবার মানুষের মূত্র থেকে বিয়ার বানিয়ে তা বিক্রি করা হচ্ছে বলে খবর বের হলো।

সিঙ্গাপুরের অনেক বারে পাওয়া যাচ্ছে এমন বিয়ার। ‘নিউব্রিউ’ একটি বিশেষ তরল, যা নর্দমার পানি থেকে পরিশোধন করা হয়ে থাকে এবং সিঙ্গাপুরের পানির পাইপলাইনে তা সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

সিঙ্গাপুরের পানিবিষয়ক সংস্থা সম্প্রতি এই নতুন পানীয় বাজারে এনেছে, যা ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরের বার ও দোকানে দেদার বিক্রি হচ্ছে। সিঙ্গাপুরজুড়ে পানির দূষণ দূরীকরণে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার।

বিবিসির সাংবাদিক মনিকা মিলার সম্প্রতি বিশেষভাবে প্রস্তুত এ বিয়ারের খোঁজখবর নিয়েছেন।  

জার্মান বার্লে ও নওরেজীয় ইস্ট দিয়ে ‘নিউব্রিউ’ তৈরি হয়। যেকোনো বিয়ারের মূল উপাদান পানি। তবে এখানে ব্যবহৃত পানিটি বিশেষ ধরনের। এটির নাম ‘নিওয়াটার’। প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে এটি সিঙ্গাপুরে রয়েছে।

যেকোনো বিয়ারই ৯৫ ভাগ পানি দিয়ে তৈরি হয়। সিঙ্গাপুরের এই বিশেষ বিয়ারটিতে ব্যবহৃত নর্দমার মূত্রযুক্ত পানি অনেকগুলো ধাপে পরিশোধন করে কঠোর পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যবহার করা হয় বলে তা পানের জন্য নিরাপদ।  

তবে এই বিয়ার খেতে কেমন? সিঙ্গাপুরের বারে বসা কয়েকজনকে মিলার এই প্রশ্ন করলে তাদের একজন উত্তর দেন: ‘এটা খেতে বেশ। আমি এমন বেশ খানিকটা বিয়ারই খেতে পারব বলে মনে হচ্ছে। এটা গলা দিয়ে খুব সহজেই নেমে যায়। ’

আরেকজনকে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, “আমি যদি আপনাকে বলি এটা ‘নিওয়াটার’ দিয়ে বানানো বিয়ার, তাহলে কী বলবেন?”

তিনি বলেন, ‘নাহ্‌, এটা খেতে কোনো সমস্যাই নেই আমার। বিয়ারটি পান করতে সুস্বাদু। ’

বেশ কয়েক বছর ধরেই সিঙ্গাপুরে পানির সংকট দেখা যাচ্ছে। চারদিকে পানি দিয়ে ঘেরা হলেও দেশটিতে সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। এ সমস্যা নিরসনে নানা পদ্ধতি নিয়েছে সরকার।

মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা পানি এবং সংগ্রহ করা বৃষ্টির পানি থেকে মাত্র ৫০ শতাংশ সুপেয় পানির চাহিদা মেটে। বাকি চাহিদা মেটে নিওয়াটার ও পরিশোধিত সমুদ্রের পানি থেকে।

২০৬০ সাল নাগাদ সিঙ্গাপুরের পানির এই চাহিদা দ্বিগুণ হবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। তখন পানির এমন নতুন নতুন উৎসের প্রতি আরও বেশি ঝুঁকতে হবে দেশটিকে।

রায়ান ইয়ুন নামের সিঙ্গাপুরের জন-উপযোগ বিভাগের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, ‘যদিও এটা নর্দমা থেকে আসে, মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে এটি বিশুদ্ধ পানি। আমরা তাদের এ বিষয়ে আরও সচেতন করতে চাই। ’

সারা বিশ্বে যখন জলবায়ু পরিবর্তন বড় প্রভাব ফেলছে তখন সিঙ্গাপুর ছাড়াও চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঞ্চলে এমন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

ঘনবসতিপূর্ণ সিঙ্গাপুর তাদের দেশের একটি সোনালি জলবিন্দুও বিফলে যেতে দিতে চায় না।

news24bd.tv তৌহিদ