ওয়াজেদ মিয়া হাইটেক পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
ওয়াজেদ মিয়া হাইটেক পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

সংগৃহীত ছবি

ওয়াজেদ মিয়া হাইটেক পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

অনলাইন ডেস্ক

রংপুরে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া হাইটেক পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। রংপুর সদরের খলিশাকুড়িতে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের আওতাধীন জেলা পর্যায়ে হাইটেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পের আওতায় এই হাইটেক পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হল।    বৃহস্পতিবার রংপুর জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে হাই-টেক পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে এক অনাড়ম্বর আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।  

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া হাইটেক পার্কের মাধ্যমে আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে রংপুরবাসীর অবদান রাখার ক্ষেত্র প্রস্তুত হলো। প্রতিযোগিতার এই যুগে আমাদের তরুণদের টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তি শিক্ষার বিকল্প নাই। আর এজন্যই আমরা একটি প্রযুক্তিনির্ভর জাতি গড়ে তুলতে চাই।  

তিনি বলেন, রংপুর সবসময়ই অবহেলিত এলাকা ছিলো, এখানে কখনও শিল্পায়ন হয়নি। রংপুরবাসীর উন্নয়নে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া হাই-টেক পার্কের মাধ্যমে এখানকার তরুণ-তরুণীদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হলো। এই পার্কে তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।  

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে নীরবে-নিভৃতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গিয়েছেন। তার গবেষণা কর্মের পরিধি ছিল ব্যাপক। ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া শুধু তার কাজের জন্য নয়, বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে বেঁচে আছেন এবং থাকবেন। এ কারণে আমরা এই হাইটেক পার্কের নামকরণ রংপুরের এই কৃতি সন্তানের নামে করতে চাই।  

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (গ্রেড-১) ডা. বিকর্ণ কুমার ঘোষ বলেন, এখন পর্যন্ত হাইটেক পার্কগুলোতে ১৯০টি প্রতিষ্ঠানকে স্পেস ও প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২৩টি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং ১৫১টি স্থানীয় স্টার্টআপ কোম্পানিকে বিনামূল্যে কো-ওয়ার্কিং স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।  

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইটি ইন্ডাস্ট্রির জনবলের চাহিদার দিক বিবেচনা করে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মধ্যমে আইসিটি খাতে দক্ষ জনবল তৈরি হয়েছে ৩৬ হাজার জন। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আইসিটি খাতে ২২ হাজার জনের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রায় ১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে রংপুর সদরের খলিশাকুড়িতে ১০ দশমিক ৬৮ একর জমিতে এই হাইটেক পার্ক স্থাপনের কাজ শেষ হল। এখানে প্রায় ৩ হাজার জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।  

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের পুলিশ কমিশনার আব্দুল আলীম মাহমুদ, রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান , জেলা পর্যায়ে আইটি /হাই-টেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এ কে এ এম ফজলুল হক, এলএডিপি প্রকল্প পরিচালক হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এড. হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিউর রহমান সফি, ড. ওয়াজেদ মিয়া মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান একেএম ছায়াদত হোসেন বকুল, আইসিটি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।  
news24bd.tv/আলী