মাঙ্কিপক্সের ঝুঁকিতে তরুণরা : গবেষণা
মাঙ্কিপক্সের ঝুঁকিতে তরুণরা : গবেষণা

সংগৃহীত ছবি

মাঙ্কিপক্সের ঝুঁকিতে তরুণরা : গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক

তরুণদের মধ্যে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। স্মলপক্সের টিকা জোরদার না হওয়ায় এ ঝুঁকি বেড়েছে। এতে তরুণদের মৃত্যুঝুঁকিও ১০ থেকে ৪০ শতাংশ বলে ‘মাঙ্কিপক্স প্যানিক অর রিয়েল থ্রেট’ শীর্ষক গবেষণায় জানা গেছে। শনিবার (২৮ মে)  ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সংগৃহীত বিভিন্ন দেশের মাঙ্কিপক্সের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে করা গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

এ সংক্রান্ত এক বিজ্ঞান বিষয়ক সেমিনারে মেডিসেন বিভাগের চিকিৎসক তানজিদা রুবায়েত গবেষণার ফল তুলে ধরেন। এতে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া মাঙ্কিপক্স ভাইরাসে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে তিন সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে। আক্রান্তদের মধ্যে উপসর্গের ৯৫ ভাগই থাকে মুখে। সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়া বেশি কাজ করায় তরুণদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি। তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করাসহ অধিক সময় অবস্থান করায় ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।  

ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. টিটু মিয়া বলেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশে মাঙ্কিপক্স ছড়িয়েছে। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার সুযোগ নেই। মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতর ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ শনাক্তকরণে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি গাইডলাইন রয়েছে। যেহেতু রোগটি এখনো আমাদের দেশে আসেনি, তাই নিজস্ব গাইডলাইন আপাতত ততোটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। যেহেতু এটা তরুণ ও শিশুদের মধ্যে বেশি ছড়ায়, তাই নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে।  এ সময় স্মলপক্সের ভ্যাকসিনই এখন পর্যন্ত মাঙ্কিপক্স প্রতিরোধে কার্যকর রয়েছে বলেও জানান তিনি।

হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেন, আজকে এই সভার উদ্যেশ্য সচেতনতা তৈরি করা।  

হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আউট ডোর, মেডিসিন বা অন্য কোনো বিভাগে এমন লক্ষণ নিয়ে কোনো রোগী এলে আমরা যেন সচেতন থাকি, যাতে সঙ্গে সঙ্গে সেটি শনাক্ত করতে পারি। পরে ওই রোগীকে যেন অন্য কোথাও গিয়ে এটি শনাক্ত করতে না হয়। হজের পর হাজিরা দেশে ফিরলে তাদেরকেও টেস্ট করাতে হবে। আবার আসন্ন ঈদেও বর্ডার দিয়ে বিভিন্ন গবাদি পশু আমাদের দেশে আসবে। সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে যাতে কোনো পশুর মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে না পড়ে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শফিকুল আলম চৌধুরী, ঢামেক শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. দেবেশ চন্দ্র তালকদার, বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক নার্সসহ আরো অনেকে।

news24bd.tv/আলী