মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ১০ মিনিট আগে

দলের জার্সি গায়ে বৈঠক করলেন ক্রোয়েশিয়ার মন্ত্রীরা

ক্রীড়া ডেস্ক

দলের জার্সি গায়ে বৈঠক করলেন ক্রোয়েশিয়ার মন্ত্রীরা

ফুটবল নিয়ে ক্রোয়েট প্রেসিডেন্ট কোলিন্দার উচ্ছ্বাস দেখে মুগ্ধ গোটা বিশ্ব। রাশিয়ার জালে যখন ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়রা বল জড়িয়ে দিয়েছিলেন, পাকা হয়েছিল সেমিফাইনালের টিকিট, তখন আনন্দে নেচে উঠেছিলেন প্রেসিডেন্ট। পাশে বসে তখন বিমর্ষ রুশ প্রধানমন্ত্রী। গোটা বিশ্ব দেখেছিল সে আনন্দঘন মুহূর্ত। বোঝা গিয়েছিল, এমন ফুটবলপাগল প্রেসিডেন্ট থাকলে যে কোনো দেশই খেলাধুলায় উন্নতি করতে পারে।

মোটে ৪৩ লক্ষ বাসিন্দার দেশ তা করেও দেখিয়েছে৷ বিশ্বজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তারা। আর এ মুহূর্তে ক্রোয়োশিয়া জুড়েেএখন উন্মাদনা। খোদ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সকল সদস্য তাই বৈঠক করলেন দলের জার্সি পরেই।নেট দুনিয়া ছেয়ে গেছে ক্রোয়েট মন্ত্রিসভার বৈঠকের সে ছবিতে৷ 

জনসংখ্যা কম। কিন্তু আবেগ-উদ্দীপনার নিরিখে যে কোনো বড় দেশকে হার মানাতে পারে ক্রোয়েশিয়া। সে নমুনা দেখিয়েছিলেন খোদ প্রেসিডেন্টই। স্রেফ দলের জার্সি পরে বসার নিয়ম নেই বলে ভিভিআইপি বক্স ছেড়ে দিয়েছিলেন। খেলা দেখেছিলেন সমর্থকদের মধ্যে বসে৷ দেশের অন্দরে যে কতখানি উত্তেজনা, তা এর থেকেই বোঝা যায়।

ক্রোটদের সে আবেগের দাম দিয়েছেন মডরিচরা। টানা তিন ম্যাচ ১২০ মিনিট খেলেও হার মানেননি। দলকে ফাইনালে তুলেছেন। দেখা যাচ্ছে, বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা সব চেয়ে ছোট দেশ এখন ক্রোয়েশিয়াই। দেশের ফুটবল ইতিহাস এই মুহূর্তে ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ফাইনালে উঠেই ইতিহাস তৈরি করেছেন রাকিটিচরা৷ বাকি এখন একটিমাত্র ধাপ। তবে এই গৌরবকেও খাটো করে দেখছেন না ক্রোয়েটরা।

‘মস্কোয় যা হয়েছে, তা আমাদের ছোট দেশের জন্য এক বিরল সম্মানের মুহূর্ত’- ক্রোয়েট প্রধানমন্ত্রী আন্দরেজ প্লেনকোভিচ তাই মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরুটা করেছেন এই কথা বলে। আর দেশের ফুটবল আবেগের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হিসেবে খোদ প্রধানমন্ত্রী পরেছিলেন দলের জার্সি। সব ক্রোয়েট মন্ত্রীদের পরনেও ছিল একই পোশাক। নিঃসন্দেহে ফাইনালের আগে এই দৃশ্য বাড়তি প্রেরণা দেবে দালিচের শিষ্যদের।

দল যে কতোটা মুখিয়ে আছে, তা কোচের কথাতেও স্পষ্ট। দালিচ জানাচ্ছেন, ‘প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ই নিজেকে নিংড়ে দিতে তৈরি। কেউ বলছে না যে, আমি তৈরি নই। এমনকি এর আগেও অতিরিক্ত সময়ে কেউ এসে বলেননি সে ক্লান্ত, বসতে চায়। সকলেই চেয়েছে লড়াই করতে। সে লড়াই এখনো ফুরোয়নি।’ 

সোনার স্বপ্ন মুঠোয় পুরে তবেই শেষ হোক সংগ্রামের ইতিবৃত্ত, চাইছে গোটা ক্রোয়েশিয়া।

সূত্র: ইয়াহু স্পোর্টস

অরিন/নিউজ টোয়েন্টিফোর

মন্তব্য