ডেল্টা লাইফের অর্থ আত্মসাত, পরিচালনা পর্ষদকে তলব করেনি দুদক

ডেল্টা লাইফের অর্থ আত্মসাত, পরিচালনা পর্ষদকে তলব করেনি দুদক

মাহমুদুল হাসান

বিভিন্ন অনিময়, দুর্নীতি আর অর্থ আত্মসাতে ক্ষতি ৩ হাজার কোটি টাকা। ওই ঘটনায় ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর পরিচালনা পর্ষদকে সাসপেন্ড করা হলেও এখনও তাদের তলব করেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের আইনজীবি খুরশীদ আলম বলেন, তথ্য-প্রমাণ যাচাই বাছাইয়ের পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে দুদক। বীমা কোম্পানীগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ'র (IDRA) চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেনের মন্তব্য, এ ধরনের কোন একটি ঘটনা পুরো খাতের ওপর গ্রাহকের আস্থা নষ্ট করে।

এর আগে নিরপেক্ষ অডিটের মাধ্যমে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও অর্থআত্মসাতের প্রমাণ মেলায়, ডেল্টা লাইফের পরিচালনা পর্ষদকে বহিষ্কার করে আইডিআরএ।  

গত বছরের ফেরুয়ারিতে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের কারণে ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদকে সাসপেন্ড করে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কতৃপক্ষ। পরে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করে কর্তৃপক্ষ। প্রশাসকের অধীনে পেশাদার নিরীক্ষা ফার্ম দিয়ে অডিট করা হয়।

অডিট রিপোর্টে উঠে পরিচালনা পর্ষদের স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি, অর্থআত্মসাতের বিষয়টি। রিপোর্টের তথ্যমতে, কোম্পানীর ডেটা বেইজ থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে। যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

২ হাজার ২শটি ব্যাংক হিসাবের নেই কোন নথি। ভূয়া এজেন্ট কমিশন ও জাল ভাউচার ব্যবহার করে আত্মসাত করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা। বিভিন্ন আমানতি টাকা প্রভিশন না দেখিয়ে আত্মসাত করার তথ্যও উঠে এসেছে অডিট রিপোর্টে। এর বাইরে পরিচালনা পর্ষদ আলাদা ট্রাস্ট গঠন করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা।

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, এমন ঘটনা হতাশাজনক। গ্রাহকদের মাঝে বিমা শিল্প নিয়ে আস্থার সংকট তৈরির শঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

আইডিআরএ এর চেয়ারম্যান ড. এম. মোশাররফ বলেন, ভূয়া এজেন্ট কমিশন ও জাল ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতে করেছে আগের পরিচালনা পর্ষদ। তাদের বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এদিকে, অডিট রিপোর্টের ভিত্তিতে দুদকে অভিযোগ জানিয়েছেন প্রশাসক। তার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন নথিও তলব করেছে দুদক। নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও ডেটা অ্যানালাইসি করে ঘটনার সত্যতা যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানয়েছেন দুদকের আইনজীবী।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবি খুরশীদ আলম বলেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে দুদক। যদিও এর প্রেক্ষিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি অনুসন্ধানের নিমিত্ত সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র-তথ্যাদি সরবরাহের জন্য দুদক থেকে ডেল্টা লাইফের প্রশাসককে পত্র দেয়া হয়েছে তবে ডেল্টা লাইফের প্রাক্তন পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃপক্ষকে এখনো তলব করা হয়নি।  

এমন ঘটনা দেশের আর্থিক খাতের জন্য এক অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছে দুদক।