উত্তরায় চুরি শেষে ফাঁকা ফ্ল্যাটে টানা ৩ দিন মদের পার্টি
উত্তরায় চুরি শেষে ফাঁকা ফ্ল্যাটে টানা ৩ দিন মদের পার্টি

সংগৃহীত ছবি

উত্তরায় চুরি শেষে ফাঁকা ফ্ল্যাটে টানা ৩ দিন মদের পার্টি

অনলাইন ডেস্ক

ফ্ল্যাটের মালিক ও তার স্ত্রী ঘর তালাবদ্ধ করে মাস দুয়েক আগে কানাডায় ছেলেমেয়ের কাছে বেড়াতে যান। এই সুযোগে বাসার নিরাপত্তারক্ষী ও তার চার সহযোগী গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে নির্বিঘ্নে চুরির শেষ করে টানা তিনদিন ফাঁকা ফ্ল্যাটে মদ, গাঁজা ও গানের আসর বসান। এ সময় একে একে সব আলমারি ভেঙে অর্ধকোটি টাকার এফডিআর ছাড়াও ৩০ লাখ টাকা মূল্যের প্রাইজবন্ড, পৌনে ৪ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, ট্যাব হাতিয়ে নেন তারা। এরপর ফ্রিজ থেকে আম-আপেলসহ নানা ধরনের খাবার-দাবার খায় চোর চক্র।

ঘটনাটি ঘটে উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৯ নম্বর সড়কের ৫৬ নম্বর বাসার মেজর (অব.) বোরহান উদ্দিনের ফ্ল্যাটে। কিন্তু জানাজানি হয় ছয় লাখ টাকার একটি এফডিআর ভাঙাতে ৩১ মে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের উত্তরা শাখায় যান এক যুবক। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত হতে এফডিআরের মূল মালিক মেজর (অব.) বোরহান উদ্দিনকে ফোন করে।

ফোনের ওপার থেকে খবরটি পেয়ে বিস্মিত হন এবং জানান এফডিআর ভাঙানোর জন্য কাউকে পাঠাননি তিনি। অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে ব্যাংক কর্মকর্তার চোখ ফাঁকি দিয়ে সটকে পড়েন ওই যুবক।

পরে কানাডা থেকে বিষয়টি বাড়ির আরেক বাসিন্দাকে জানালে নিশ্চিত হওয়া যায় চোর চক্র ওই বাসায় হানা দিয়েছে। এরপর পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে ওই বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী মো. কবিরুলের নেতৃত্বে পাঁচজন বোরহানের ফ্ল্যাট থেকে নগদ টাকাসহ ৫০ লাখ টাকার এফডিআর ও স্বর্ণালংকার চুরি করেছেন। চুরির পরও তিন দিন ফাঁকা ফ্ল্যাটে গিয়ে তারা গান ও মদের আসর বসান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক ইয়াছিন গাজী জানান, টেস্ট কেস হিসেবে ৬ লাখ টাকার একটি এফডিআর ভাঙাতে ব্যাংকে যান চক্রের এক সদস্য। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি পালিয়ে যান। ব্যাংকের সিসিটিভির ফুটেজে তার ছবি রয়েছে। তদন্ত শুরুর পর ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে নিরাপত্তারক্ষী কবিরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এক পর্যায়ে কবিরুল স্বীকার করেন, তার নেতৃত্বে চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা আরও জানায়, নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। আর বাসা থেকে নেয়া এফডিআর, প্রাইজবন্ড, স্বর্ণালংকার নিরাপত্তারক্ষী কবিরুল তার হেফাজতে রাখেন। এসব ভাঙাতে পারলে তাদের ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়ার কথা ছিল।

news24bd.tv/আলী