কন্টেইটারে ছিল হাইড্রোজেন পার অক্সাইড
কন্টেইটারে ছিল হাইড্রোজেন পার অক্সাইড

এমন রাসায়নিকের আগুন নেভাতে হয় ফগ সিস্টেমে

কন্টেইটারে ছিল হাইড্রোজেন পার অক্সাইড

অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম ডিপোতে আগুনের ঘটনার মাঝে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। এতেই মূলত হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এই বিস্ফোরণের জন্য প্রাথমিক ভবে ধারণা করা হচ্ছে যে, কনটেইনারে থাকা দাহ্য পদার্থ থেকেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কন্টেইটারে হাইড্রোজেন-পার-অক্সাইড ছিল যা আগুনের তাপে বিস্ফোরিত হয়।

হাইড্রোজেন-পার-অক্সাইড একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত H2O2। বিশুদ্ধ অবস্থায় এটি বর্ণহীন তরল, জলের থেকে এর সান্দ্রতা সামান্য বেশি। নিরাপত্তাজনিত কারণে সব সময় এটার জলীয় দ্রবণ ব্যবহার করা হয়। H2O2 সব থেকে সরল পারক্সাইড (যে যৌগে অক্সিজেন-অক্সিজেন একক বন্ধন থাকে) এবং এটা শক্তিশালী জারক ও বিরঞ্জক। গাঢ় H2O2 রকেটের জ্বালানিতে প্রোপেল্যান্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।  হাইড্রোজেন-পার-অক্সাইড সংক্রমণনাশক। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বিরুদ্ধে কাজ করে। ১৯২০ সাল থেকে এটি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়া হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। হাইড্রোজেন-পার-অক্সাইডে অতিরিক্ত একটি অক্সিজেন থাকে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আনিসুর রহমান জানান, ডিপোটির কন্টেইটারে থাকা রাসায়নিক পদার্থের কারণেই এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। যার কারণে আগুনে বিকট বিস্ফোরণ হয়েছে তিন দফা। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে আমদানি করা হাইড্রোজেন-পার-অক্সাইড ছিল মূলত এসব কন্টেইটারে। রাসায়নিক উচ্চ চাপে এসব বোতলজাত করা হয়ে থাকে।

ডিপোর কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, প্রথমে আগুন নেভাতে আসা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কেউ অবহিত করেনি। এমন রাসায়নিকের আগুন নেভাতে হয় ফগ সিস্টেমে। আমরা পরে এই পদ্ধতিতে এবং ফোমের মাধ্যমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছি। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করেছে।

গতকাল শনিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিএম কন্টেইনার ডিপোর লোডিং পয়েন্টের ভেতরে আগুন লাগে। রাত পৌনে ১১টার দিকে এক কন্টেইনার থেকে অন্য কন্টেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কন্টেইনারে রাসায়নিক থাকায় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আগুনের ভয়াবহতা বেড়ে যায়। হতাহতের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।