৯ ফায়ার সার্ভিস কর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার, শনাক্ত ৮
৯ ফায়ার সার্ভিস কর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার, শনাক্ত ৮

সংগৃহীত ছবি

সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ড

৯ ফায়ার সার্ভিস কর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার, শনাক্ত ৮

অনলাইন ডেস্ক

হাশেম ফুডের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য প্রশংসিত হয়েছিলেন সদর দপ্তরের ফায়ার ফাইটার মনিরুজ্জামান। পরবর্তী সময়ে পোস্টিং পান কুমিরা ফায়ার স্টেশনে। নতুন কর্মস্থলে যাওয়ার দুই মাসের মাথায়ই সীতাকুণ্ডের কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। রাতভর চলা এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ হন মনিরুজ্জামানসহ ফায়ার সার্ভিসের ১২ জন কর্মী।

পরে নয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হয়েছে আটজনের। তাদেরই একজন সেই মনিরুজ্জামান, অন্যরা তার সহকর্মী। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর থেকে মৃতদেহ উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্তের তথ্য জানানো হয়।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের প্রধান শাহজাহান শিকদার বলেন, সীতাকুণ্ডে কনটেইনার ডিপোর আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট অংশ নেয়।

এর মধ্যে মোট ১২ জন ফায়ার ফাইটারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তাদের নিখোঁজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন : আগুন নেভাতে গিয়ে নিভে গেল ৯ জীবন প্রদীপ

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর জানায়, নিখোঁজ ১২ জনের মধ্যে নয়জনের মরদেহ উদ্ধারের পর সেখান থেকে আটজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তারা হলেন কুমিরা ফায়ার স্টেশনের মো. রানা মিয়া, মনিরুজ্জামান, আলাউদ্দিন, মো. সাকিল তরফদার, মিঠু দেওয়ান, রমজানুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও সীতাকুণ্ড ফায়ার স্টেশনের নিপন চাকমা। এর বাইরে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন শফিউল ইসলাম, মো. রবিউল ইসলাম, ফরিদুজ্জামান ও ইমরান হোসেন মজুমদার।

নিহত মনিরুজ্জামানের সঙ্গে গত বছরের ৮ জুলাই হাশেম ফুডের নারায়ণগঞ্জের কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছিলেন সাহিদুল সুমন। তারা দুজনই তখন সদর দপ্তরে কর্মরত। মনিরুজ্জামান একজন চৌকস ফায়ার ফাইটার কর্মী উল্লেখ করে সাহিদুল বলেন, মনিরুজ্জামান ছিলেন দায়িত্বপরায়ণ একজন কর্মী। জীবনের মায়া ত্যাগ করে তিনি হাশেম ফুডের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছিলেন। প্রচণ্ড আগুনের মধ্যেও তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন আগুনের কেন্দ্রবিন্দুর দিকে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগ পর্যন্ত তিনি এক ফোঁটা বিশ্রামও নেননি।

গত শনিবার (৪ জুন) রাত ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি এলাকায় বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় রাসায়নিক থাকা একটি কনটেইনারে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক।

news24bd.tv/আলী