বউ ভাগিয়ে নেয়ায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা
বউ ভাগিয়ে নেয়ায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা

সংগৃহীত ছবি

বউ ভাগিয়ে নেয়ায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক

ফরিদপুরের মধুখালীতে অন্যের বউকে ভাগিয়ে নেয়ার অপরাধে গুরুচাঁদ মণ্ডল নামে এক যুবককে একঘরে রাখার পর কুপিয়ে জখম করা হয়েছিল। ২১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে রাজধানীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত গুরুচাঁদ মণ্ডল ঐ উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের বামুন্দী কলাগাছি গ্রামের রেপতি মণ্ডলের ছেলে।

নিহতের স্ত্রী মনিকা মণ্ডল জানান, প্রায় ২ মাস আগে তার স্বামী গুরুচাঁদ মণ্ডলের হাত ধরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় পাশের গ্রামের জয়ন্ত সরকারের স্ত্রী।

চারদিন পর তাদের দুইজনকে ঝিনাইদহ থেকে আটক করে পুলিশ। ঐ ঘটনার পর গুরুচাঁদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন জয়ন্ত সরকার। ঐ মামলায় তিনি সাতদিন জেলে ছিলেন। এরপর জামিনে বেরিয়ে আসেন।

তিনি আরো জানান, জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকেই জয়ন্ত লোক দিয়ে তার স্বামীকে মারার চেষ্টা চালাতে থাকে। বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলে। সেই থেকে গুরুচাঁদ মণ্ডল পালিয়ে থাকতেন। এরই মধ্যে এক রাতে বাড়ি ফেরার পথে তাকে কুপিয়ে জখম করে জয়ন্ত সরকার।

গ্রামবাসী জানায়, গুরুচাঁদ তেলের ট্রাক চালাতেন। কিছুদিন তেলের ব্যবসাও করেছেন। তিন বছর আগে তার সঙ্গে জয়ন্ত সরকারের বন্ধুত্ব হয়। সেই সুবাদে জয়ন্ত সরকারের বাড়িতে তার যাতায়াত ছিল। এভাবেই জয়ন্তের স্ত্রীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দুই মাস আগে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। ঐ ঘটনায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর গ্রামের মাতব্বররা সালিশ করে গুরুচাঁদ ও তার পরিবারকে একঘরে করে রেখেছিল। সেই সময় গুরুচাঁদকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় জয়ন্ত সরকার। এখন তার পরিবার অসহায় ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

মেগচামী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসান আলী জানান, তিনি গুরুচাঁদের পরিবারকে একঘরে করে রাখার খবর জানতেন না।

মধুখালী থানার এসআই সান্টু দেব জানান, ১৫ মে রাতে গুরুচাঁদকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন তার স্ত্রী মনিকা মণ্ডল। পুলিশ ঐ মামলার প্রধান আসামি জয়ন্ত সরকার ও উজ্জ্বল নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে জয়ন্ত সরকার কারাগারে। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে।

news24bd.tv/আলী