মহিলা আ.লীগের সভাপতি পদ ৩০ লাখ, সাংগঠনিক ২ লাখ
মহিলা আ.লীগের সভাপতি পদ ৩০ লাখ, সাংগঠনিক ২ লাখ

সংগৃহীত ছবি

পদবঞ্চিতদের সংবাদ সম্মেলন

মহিলা আ.লীগের সভাপতি পদ ৩০ লাখ, সাংগঠনিক ২ লাখ

অনলাইন ডেস্ক

যশোরে মহিলা আওয়ামী লীগের পদবঞ্চিতরা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেছেন, ৩০ লাখ টাকা দিয়ে পদ কিনতে হয়েছে। পদ নিতে হলে টাকা দিতে হয়। সভাপতি পদে ৩০ লাখ, সাংগঠনিক সম্পাদক পদের জন্য ২ লাখ এবং প্রচার সম্পাদকের পদের জন্য ১ লাখ টাকা দিতে হবে। যশোর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী লাইজু জামানের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনটির কাঙ্খিত পদ না পাওয়া তথা পদবঞ্চিতরা।

এছাড়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের প্রকাশিত ৯১ সদস্যের এই কমিটিতে সরকারি চাকরিজীবী থেকে শুরু করে আওয়ামী ঘরনার বাইরের লোকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাসিমা সুলতানা মহুয়া। তিনি বলেন, মোটা অংকের টাকায় বিনিময়ে, যোগ্য ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে রাজনীতির সাথে নুন্যতম সম্পর্ক নেই, কাজের মহিলা, গাড়িচালকের স্ত্রী, এমন ব্যাক্তিদের এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেত্রীদের ভুল বুঝিয়ে পকেট কমিটি করে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগকে ট্রেড ইউনিয়নে রূপান্তরিত করা হয়েছে।

নাসিমা সুলতানা মহুয়া বলেন, ঘোষিত কমিটির সহ-সভানেত্রী হোসেনে আরা হেনা ও ফেরদেীসী আরা শরীফকে ইতিপূর্বে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেখা যায়নি। তাদেরকে কেউ চেনে না। আরেক সহ-সভানেত্রী সালমা ইকবাল সাধারণ সম্পাদিকার ভাইয়ের স্ত্রী বলে তাকে ওই পদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‘সহ-সভাপতি রোকেয়া বিশ্বাস ও তার কন্যা প্রচার সম্পাদিকা রোমানা বিশ্বাসকে কেউ চেনে না। সেটেলমেন্টে চাকরিরত মমতাজকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির সভানেত্রীর গাড়িচালকের স্ত্রী শিরিন বেগমকে সম্পাদকমণ্ডলীতে রাখা হয়েছে। ’

নাসিমা সুলতানা মহুয়া আরও বলেন, সাধারণ সম্পাদিকার কাজের মহিলা ফেরদেীসী বেগম সুন্দরী ও তার ছেলের বান্ধবী লাইলী তাসমিন রানীকে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। আওয়ামী পরিবারের বাইরে থেকে জেসমিন আরা লাকিকে সহ-সভানেত্রী, নাদিরা ইয়াসমিনকে সাংগঠনিক সম্পাদিকা, সালমা পারভিন কেয়া ও দিল আফরোজ ইতিকে যুগ্ম-সম্পাদিকা, ফারহানা রহমানকে দপ্তর সম্পাদিকা, গৃহিনী পরিনিতা দাস এবং শাহনাজ মুন্নিকে সহসভানেত্রী করা হয়েছে। যারা ইতিপূর্বে দলে কোনো পদ-পদবীতে ছিলেন না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, কমিটির অনেকে যশোরে থাকেন না। এই কমিটির মধ্যদিয়ে ত্যাগীদের রাজনীতির কবর রচনা করা হয়েছে। তিনি অবিলম্বে কমিটিতে ব্যাপক রদবদলের মাধ্যমে যোগ্য ও ত্যাগীদের অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে কমিটির নির্বাহী সদস্য শিমু চেীধুরী বলেন, আমাকে টাকার জন্য কাঙ্খিত পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সভানেত্রী আমাকে বলেন, আমি ৩০ লাখ টাকা দিয়ে পদ পেয়েছি। সাংগঠনিক সম্পাদক নিতে হলে ২ লাখ এবং প্রচার সম্পাদকের জন্য ১ লাখ টাকা দিতে হবে। সভানেত্রীর স্বামী আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, পদ নিয়ে খুশি না হলে পুলিশ দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেব।

শিমু চেীধুরী আরও বলেন, কাঙ্খিত পদ না পেলে আমরা যারা রাজপথে ছিলাম, তারা আর রাজপথে থাকবো না। ঘরে বসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবো। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, শাহিদা বেগম, রোকেয়া আক্তার, রোকসানা আরা ডলি, করুনা, ফজিলা বেগম প্রমুখ। সভানেত্রী লাইজু জামানের সাথেমুঠো বথা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সংবাদ সম্মেলনে তাদের করা অভিযোগগুলো অসত্য, ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, পদ নিয়ে টাকা পয়সার যে অভিযোগ করা হয়েছে সব ভিত্তিহীন।

news24bd.tv/আলী