খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকারকে দায় নিতে হবে : ফখরুল
খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকারকে দায় নিতে হবে : ফখরুল

ফাইল ছবি

খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকারকে দায় নিতে হবে : ফখরুল

তওহিদ হায়দার

বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চিকিৎসকরা বলছেন তার যে ধরণের চিকিৎসা দরকার তা বাংলাদেশে নেই। বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু যদি তার কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে এর দায় সরকারকে নিতে হবে।  

আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকার দুই মহানগর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে এ অনুষ্ঠানে ফখরুল সরকারের সমালোচনা করে বলেন,  তাদের সলিমুদ্দিন, কালিমুদ্দিন, সাজাপ্রাপ্তরা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে। অথচ মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া বেগম খালেদা জিয়াকে তারা বিদেশে যেতে দিচ্ছে না। এর কারণ সরকার তাকে ভয় পায়। তিনি যদি রাস্তায় নামে তাহলে হেমিলিয়ানের বাঁশিওয়ালার মতো মানুষের ঢল নেমে আসবে।  

সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ফখরুল বলেন,  বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা দিতে হবে। যেটা আমাদের এখানে নেই। যেটা বিদেশে আছে। বারবার চিকিৎসকরা বলছেন। আমরা খুব সোজা কথা আল্লাহ না করুন বেগম খালেদা জিয়ার যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে সরকারকেই দায় নিতে হবে। এ দেশের মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবে না। টেনেহিঁচড়ে নামাবে।

ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষার দাবিতে এই কর্মসূচি। তিনি শুধু একটি দলের প্রধান নন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। দেশের মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি একজন গৃহবধূ ছিলেন। কিন্তু যেদিন বাংলাদেশের শত্রুরা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে সেদিন সময়ের প্রয়োজনে, মানুষের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। নয় বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। এরপর থেকে যতবার ক্ষমতায় এসেছেন ততবার দেশ এবং গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছেন।  

ফখরুল বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে নেয়া হয়েছে। তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য শেখ হাসিনা সুপরিকল্পিতভাবে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, দুদককে নিয়ন্ত্রণ করে এটি করেছে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের কথা স্পষ্ট। তাকে বিদেশে পাঠাতে হবে। অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

এর বাইরে দেশের মানুষ কিছু মেনে নিতে প্রস্তুত না। এখনো কিছুটা সময় আছে। রক্ষা পেতে পারেন। এরপর আর পালাবার পথ পাবেন না। সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। যে দুর্বার আন্দোলন হবে তাতে আপনাদের রক্ষা হবে না।  
 
বাজেটের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, বাজেটে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে তো কোনো ব্যবস্থা নেনই নি, বরং কেমনে বাড়ানো যায় সেটা করেছেন। শিক্ষা-স্বাস্থ্যে বরাদ্দ বাড়েনি। অথচ করোনাকালে স্বাস্থ্যখাতের বেহাল দশা ফুটে উঠেছে।  

পাচার করা টাকা ফেরত আনার সুযোগের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, এতদিন টাকা পাচার করেছেন। কানাডা, অস্ট্র্রেলিয়া, ইংল্যান্ডে, বেগম পাড়ায় বাড়ি করেছেন এখন সেগুলো জায়েজ করতে কর দিয়ে টাকা ফেরত আনার কথা বলেছেন।

news24bd.tv রিমু