আল্লাহ সর্বোত্তম রক্ষক
আল্লাহ সর্বোত্তম রক্ষক

প্রতীকী ছবি

আল্লাহ সর্বোত্তম রক্ষক

মুফতি আতাউর রহমান   

মহান আল্লাহর একটি গুণবাচক নাম হলো ‘হাফিজ’। অর্থ রক্ষাকারী। কোরআন ও হাদিসে আল্লাহর গুণ হিসেবে ‘হাফিজ’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক সব কিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী।

(সুরা : হুদ, আয়াত : ৫৭)

ইমাম তাবারি (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ তাঁর সব কিছুর ব্যাপারে অবগত এবং তা সংরক্ষণকারী। ’ আল্লাহ শুধু সংরক্ষণকারী নন, বরং রক্ষণাবেক্ষণে তিনিই সর্বোত্তম। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহই রক্ষণাবেক্ষণে শ্রেষ্ঠ এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। ’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৬৪)

আল্লাহ যেমন তাঁর সমগ্র সৃষ্টিজগেক সংরক্ষণ করেন, তেমনি কালাম ও দ্বিন সংরক্ষণ করেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমিই কোরআন অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্য আমিই তার সংরক্ষক। ’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৯)

ইমাম তাবারি (রহ.) আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআনকে রক্ষা করব যেকোনো অন্যায় সংযোজন থেকে এবং তার আইন ও বিধি-বিধানের বিয়োজন থেকে। ’ (তাফসিরে তাবারি : ১৪/১৮)

মুহাম্মদ খলিল হাররাস বলেন, আল্লাহর হাফিজ নামের দুটি অর্থ— এক. আল্লাহ বান্দার ভালো ও মন্দ, পাপ ও পুণ্য, আনুগত্য ও অবাধ্যতা ইত্যাদি কাজের হিসাব রাখেন, দুই. আল্লাহ বান্দাকে সব অপছন্দনীয় জিনিস থেকে রক্ষা করেন। আবার সৃষ্টিজগতের জন্য আল্লাহর সংরক্ষণ দুই প্রকার। সাধারণ ও বিশেষ। সাধারণ সংরক্ষণ সব সৃষ্টির জন্য প্রযোজ্য। বিশেষ সংরক্ষণ আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের জন্য নির্ধারিত। (শরহুল কাসিদা : ২/৯০)

প্রিয় বান্দাদের জন্য আল্লাহর সংরক্ষণনীতি সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেন, তুমি আল্লাহর (বিধি-নিষেধ) রক্ষা করবে, আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করবেন। তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ রাখবে, আল্লাহ তাআলাকে তুমি কাছে পাবে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৫১৬)

নিম্নোক্ত আয়াত থেকেও বিশেষ সংরক্ষণের ধারণা পাওয়া যায়। আল্লাহ বলেন, ‘যারা সৎপথ অবলম্বন করে আল্লাহ তাদের সৎপথে চলার শক্তি বৃদ্ধি করেন এবং তাদেরকে আল্লাহভীরু হওয়ার শক্তি দান করেন। ’ (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ১৭)