জনপ্রতিনিধির বাড়িতে ফেনসিডিলের বার!
জনপ্রতিনিধির বাড়িতে ফেনসিডিলের বার!

সংগৃহীত ছবি

জনপ্রতিনিধির বাড়িতে ফেনসিডিলের বার!

অনলাইন ডেস্ক

নাম তার বাদশা। জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন একটি ওয়ার্ডে। আর এ জনসেবার আড়ালেই নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন ফেনসিডিলের বার। ইউপি সদস্যের এ ‘বারে’ কেউ এলেই সযত্নে ফেনসিডিল পরেবিশন করে দেন বাদশার স্ত্রী স্বপ্না বেগম।

দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রতিনিধির আড়ালে চলছে তার এ ব্যবসা। বাদশা মিয়া লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য। তিনি একই ওয়ার্ডের মালগাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানায়, ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা গ্রাম হওয়ায় মালগাড়া হলো চোরাচালানের নিরাপদ রুট। বিভিন্ন ধরনের মাদকের মধ্যে স্থানীয় মাদকসেবীদের কাছে বেশি পছন্দ ফেনসিডিল। সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসায় জড়িত বাদশা। ব্যবসা ঠিক রাখতে এবার অংশ নেন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। বিপুল ভোটে মেম্বার হিসেবেও নির্বাচিত হন। কিন্তু জনপ্রতিনিধির লেবাসে চলছে মাদক ব্যবসা। খুচরা-পাইকারি দুই ধরনের ব্যবসাই রয়েছে তার। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বড় চালান পাচার করে সোজা বাদশার বাড়িতে পাঠান। সেখান থেকে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের হাতেও চলে যায় এসব মাদক।

ইউপি সদস্যের বিশাল বাড়ির বারান্দায় বসার ও বিশ্রামের ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রতিনিয়ত মাদকসেবীরা তার বাড়িতেই ভিড় জমান। হাতের কাছে নিরাপদ মাদক সেবনের ব্যবস্থা পেয়ে উঠতি স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর-তরুণ ছুটছে ফেনসিডিলের বারে। এভাবেই নষ্ট হচ্ছে এলাকার তরুণ সমাজ। যুবসমাজ রক্ষায় অবৈধ এ বার বন্ধ করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে স্থানীয় সুশীল সমাজ।  

ইউপি সদস্য বাদশার স্ত্রী স্বপ্না বেগম নিজেই এ বারে চাহিদামতো ফেনসিডিল পরিবেশন করেন। গ্লাসে ঢেলে দেন ফেনসিডিল। ফেনসিডিল সেবনে যা প্রয়োজন সবই রয়েছে তাদের টেবিলে। ১০০ মিলিগ্রাম এক বোতল ফেনসিডিলের খুচরা দাম ধরা হয় এক হাজার থেকে ১১শ’ টাকা। যার যত গ্রাম প্রয়োজন, তাকে তত গ্রাম গ্লাসে ঢেলে দিয়ে টাকা নেন।

জনপ্রতিনিধির এমন ফেনসিডিলের বারের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইউপি সদস্য বাদশার স্ত্রী স্বপ্না বেগম টাকা নিয়ে নিজেই পাশের রুম থেকে ফেনসিডিল এনে টেবিলের গ্লাসে পরিবেশন করছেন। পুরো বোতল নয়, বোতলের অর্ধেক বা এক চতুর্থাংশ ফেনসিডিল সেবন করারও ব্যবস্থা রয়েছে। যত টাকা, ততটুকুই ফেনসিডিল গ্লাসে পরিবেশন করা হয়।  

ভিডিওতে দেখা যায়, ইউপি সদস্যের স্ত্রী স্বপ্না বেগম একদিন ২০ টাকা কম পাওয়ায় সোর্সের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।  

সোর্স বলেন, এখানে প্রশাসন আসে না?

স্বপ্না বেগম বলেন, এটা মেম্বারের বাড়ি। এখানে প্রশাসনের ক্ষমতা আছে? ম্যাজিস্ট্রেট হলে সমস্যা।  

একদিন সোর্স দাম কম দেওয়ায় খারাপ আচরণ করেন স্বপ্না বেগম। তখন স্বপ্না বেগম বলেন, আজ দাম বাড়ায় ৫০০ মাল ফেরত দিয়েছি। যেখানে কম পাবেন, সেখানে যান। এখানে আসছেন কেন? ইনটেক খান, খোলা খাবেন কেন?

সোর্স বলেন, মেম্বারের বাড়ি, এখানে নিরাপত্তা বেশি। সেজন্য আসি।  

দ্বিতীয় দফায় সোর্স ফেনসিডিলের টাকা সরাসরি ইউপি সদস্য বাদশা মিয়ার হাতে দেওয়ার সময় বিগত দিনে স্ত্রীর খারাপ আচরণের বর্ণনা দেন। যা শুনে তিনি স্ত্রীকে বিষয়টি নিয়ে শাসন করেন। বলেন, ২০ টাকার জন্য তোকে এ কথা বলতে হবে কেন?

নগদ টাকা না থাকায় অন্য একদিন সোর্স মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর কথা বললে স্বপ্না বেগম একটি মোবাইল ফোন নম্বর দেন। ওই নম্বরে টাকা পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত হলেই কেবল ফেনসিডিল পরিবেশন করেন তিনি। ওই নম্বরটিতে কল করলে আনোয়ার নামে একজন ফোন ধরে বলেন, বাদশা মেম্বারকে চিনি, তবে এটা তার নম্বর নয়। মূলত সরাসরি নিজেদের নম্বর না দিয়ে এ কাজের জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এক এজেন্টের নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব বিষয় অস্বীকার করেন গোড়ল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাদশা মিয়া।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। অনেককেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। তবে ইউপি সদস্যের বাসায় ফেনসিডিল সেবনের সুব্যবস্থা রয়েছে এমন কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই।

news24bd.tv/আলী 

সম্পর্কিত খবর