ভুয়া র‌্যাব তুলে নিলো কিশোরকে, উদ্ধার করলো আসল র‌্যাব
ভুয়া র‌্যাব তুলে নিলো কিশোরকে, উদ্ধার করলো আসল র‌্যাব

সংগৃহীত ছবি

ভুয়া র‌্যাব তুলে নিলো কিশোরকে, উদ্ধার করলো আসল র‌্যাব

অনলাইন ডেস্ক

হাতে পিস্তল, গায়ে র‌্যাব লেখা জ্যাকেট পরে মাইক্রো গাড়ি নিয়ে হাজির রানা আহমেদ (১৯) নামের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সামনে। রানা খেলার মাঠ থেকে বাসায় ফিরছিলো। কিন্তু কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই পিস্তল ঠেকিয়ে রানাকে মাইক্রো গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় ভুয়া র‌্যাবের ৫ সদস্য। রানাকে মাদকের অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানায় ভুয়া র‌্যাব সদস্যরা।

ততোক্ষণে রানা বুঝে যায় তাকে অপহরণ করা হয়েছে। আর এই অপহরণের জন্য রানার বাবার কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে ভুয়া র‌্যাব সদস্যরা।  

বিষয়টি জানতে পেরে অপহরণের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই রানাকে উদ্ধার করেছে আসল র‌্যাবের একটি টিম। এই উদ্ধার অভিযানে আহত হয়েছেন র‌্যাবের কয়েকজন সদস্য।

সোমবার (১৩ জুন) বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব-৪ এর সহকারী পরিচালক এএসপি (মিডিয়া) মাজহারুল ইসলাম।

তিনি জানান, ১১ জুন বিল্লাল হোসেন (৫০) নামে এক অভিভাবক রাত ২টার দিকে র‌্যাব-৪ বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ করেন, তার দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছেলে মো. রানা আহমেদকে (১৯) র‌্যাব পরিচয়ে কিছু লোক একটি সাদা মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে গেছেন। পরে তার কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি দল ১২ জুন রাজধানীর পল্লবীতে সাগুপ্তা হাউজিং লিমিটেডে নিঝুম সমিতির প্লটের কাশবনে এবং মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়াতে অভিযান চালিয়ে অপহৃত রানাকে উদ্ধার করে। এসময় অপহরণকারী চক্রের পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি গুলি, ৯৮ পিস ইয়াবা, র‌্যাব জ্যাকেট, সেনা আইডি কার্ড, ভুয়া র‌্যাব আইডি কার্ড, র‌্যাব লোগো সংবলিত স্টিকার, র‌্যাব মনোগ্রামযুক্ত মাস্ক জব্দ করা হয়েছে।  

গ্রেফতারকৃরা হলেন- মো. আশিকুর রহমান (২৯), শাহ মো. দোজাহান (২২), মো. মিঠুন (১৮), হাবিবুর রহমান (২৭) ও শরিফুল ইসলাম (৩২)।

গ্রেফতারকৃতদের বরাতে র‌্যাব জানায়, গত ১১ জুন সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী মো. রানা আহমেদ মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানাধীন সাফুল্লী স্কুল মাঠে ফুটবল খেলা শেষে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে রওনা হয়। ইনাম ক্লাবের সামনে পৌঁছানো মাত্র র‌্যাবের জ্যাকেট ও র‌্যাবের লোগো সংবলিত মাস্ক পরিহিত কয়েকজন লোক র‌্যাব পরিচয় দিয়ে পথরোধ করেন, মাথায় পিস্তল ঠেকান এবং পকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে তাকে মাদক কারবারি হিসেবে উঠিয়ে নিয়ে যান।

পরে রাত ১১টার দিকে অপহরণকারী দলের এক সদস্য ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে তার বাবার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা না দিলে ছেলেকে প্রাণে মেরে ফেলে তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিক্রয় করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন। ভুক্তভোগীর বাবা মুক্তিপণের ১৫ লাখ টাকা কমানোর জন্য বার বার অনুরোধ করে শেষ পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকায় অপহরণকারীদের রাজি করাতে পারেন। মুক্তিপণের পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীর বাবাকে মিরপুর-১ নম্বরের গোল চত্বর এলাকায় আসতে বলেন।

সেই সময় আভিযানিক দলের পরিকল্পনায় ও তত্ত্বাবধানে ভুক্তভোগীর বাবা মুক্তিপণের টাকাসহ মিরপুর-১ পৌঁছালে অপহরণকারীরা স্থান পরিবর্তন করে মিরপুর ডিওএইচএসের ১ নম্বর গেটে আসতে বলেন। সেখানে চক্রের এক সদস্য উপস্থিত হলে র‌্যাব-৪ এর দলটি তাকে গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পল্লবীর মিরপুর সাগুপ্তা হাউজিং লিমিটেড সমিতির প্লট থেকে ভুক্তভোগী রানাকে উদ্ধার করা হয় এবং আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে অপহরণকারী দলের মূল সহযোগী হাবিবুর রহমান এবং আরেক সহযোগী শরিফুল ইসলামকে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা পরস্পর পূর্ব পরিচিত। ভুক্তভোগীর বাবা এলাকার চাল ব্যবসায়ী। তার পরিবার তুলনামূলকভাবে অর্থশালী হওয়ায় প্রতিবেশী শরিফুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমানের পরিকল্পনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাকি অপহরণকারীরা পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে অপহরণ করেন। অপহরণকারীদের গ্রেপ্তাতারের অভিযানে র‌্যাবের পাঁচ সদস্য আহত হয় বলেও জানায় র‌্যাব-৪ এর সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম।

news24bd.tv/আলী 

সম্পর্কিত খবর