বিনিয়োগ আকর্ষণে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ
বিনিয়োগ আকর্ষণে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ

প্রতীকী ছবি

বিনিয়োগ আকর্ষণে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ২০২১ সালে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারতের পর দ্বিতীয় শীর্ষ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। দ্য ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট (ডাব্লিউআইআর) ২০২২ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আংকটাডের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে এফডিআই এসেছে প্রায় ২৯০ কোটি ডলার।

আংকটাডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে এফডিআই আগের বছরের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেড়ে মহামারির প্রায় আগের অবস্থানে চলে এসেছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশে ২.৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হয়েছিল। এক বছরে আন্তর্জাতিক প্রকল্পের সংখ্যাও তিন গুণ বেড়েছে।

এর আগে পরপর দুই বছর এফডিআই অনেক বেশি হারে কমে ২০২০ সালে ছিল ২৫৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারে এবং ২০১৯ সালে এর পরিমাণ ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারে নেমেছিল। তবে দেশে এর আগের বছর ২০১৮ সালে রেকর্ড এফডিআই এসেছিল, ৩৬১ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

আংকটাডের প্রতিবেদনে ২০২১ সালে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক প্রকল্পের চুক্তির পরিমাণ অনেক বাড়ার খবরও প্রকাশ করা হয়েছে। গত বছর মোট ৪৭০ কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক ১৪টি প্রকল্পের চুক্তি হয়েছে, যা আগের বছরের তিন গুণ। এর মধ্যে ২০০ কোটি ডলার ব্যয়ে চট্টগ্রামের উত্তর হালিশহরের আনন্দ বাজারে একটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি সবচেয়ে বড়। একই সময়ে বিদেশে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের প্রবাহও আগের বছরের চেয়ে সাত গুণের বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারে। ২০২০ সালে যা ছিল এক কোটি ২০ লাখ ডলার।

২০২১ সালে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মধ্যে এফডিআই টানার ক্ষেত্রে সেরা পাঁচে ছিল বাংলাদেশ। আংকটাডের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এলডিসিভুক্ত দেশগুলোতে ১৩ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ বেড়ে ২৬ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।

গত বছর বিশ্বজুড়েও এফডিআই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। প্রাক-মহামারি অবস্থায় পৌঁছেছে বিনিয়োগ, যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.৬ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে আংকটাডের প্রতিবেদন বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ ও বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় খাদ্য, জ্বালানি ও অর্থায়ন সংকটে ত্রিমুখী চাপ তৈরি হচ্ছে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।

বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আংকটাডের টেকসই আর্থিক নীতিবিষয়ক তথ্যভাণ্ডারে সম্পৃক্ত ৩৫টি দেশের মধ্যে ছয়টি দেশ একটি ‘ট্যাক্সোনমি’ গড়ে তুলেছে বলে জানায় সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৫টি দেশ ও বিভিন্ন দেশের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা জোটগুলোর টেকসই আর্থিক পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন নীতির সর্বশেষ উন্নয়ন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে আংকটাড। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ড, জি-২০-ভুক্ত ১৩টি উন্নয়নশীল দেশ এবং আসিয়ানের সদস্য রাষ্ট্রগুলো রয়েছে। বিশ্বের মোট জিডিপিতে ৯৩ শতাংশ অবদান এসব দেশ ও জোটের।

উন্নয়নশীল ১৩ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, চিলি, কলম্বিয়া, মিসর, হংকং (চীন), কেনিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভিয়েতনাম।

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি এফডিআই: গত বছর সারা বিশ্বের বিনিয়োগ পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালে এর পরিমাণ এক লাখ ৫৮ হাজার কোটি ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এফডিআই পাওয়া শীর্ষ ১০টি দেশ হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র, চীন, হংকং (চীন), সিঙ্গাপুর, কানাডা, ব্রাজিল, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া ও মেক্সিকো।

দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২১ সালে ভারতে এফডিআই প্রবাহ ছিল ৪৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ৬০ বিলিয়ন ডলার থেকে কম। এ ছাড়া ভুটানেও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার বাকি দেশগুলোর এফডিআই প্রবাহ বেড়েছে।

বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নাটকীয় পরিবর্তন হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে খাদ্য, জ্বালানির দামবৃদ্ধিসহ অর্থায়ন কমে আসায় ত্রিমুখী সংকট তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে মহামারির প্রভাব পড়ার পূর্বাভাস দিয়ে সংস্থাটি বলছে, বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে সুদের হার বেড়ে যাওয়ার কারণে আর্থিক খাতে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়ে মন্দা দেখা দিতে পারে।