পূর্বপুরুষের অন্ধ অনুসারী হওয়া যাবে না
পূর্বপুরুষের অন্ধ অনুসারী হওয়া যাবে না

প্রতীকী ছবি

পূর্বপুরুষের অন্ধ অনুসারী হওয়া যাবে না

মারজিয়া আক্তার 

পূর্বপুরুষের অন্ধ অনুসরণ করার কারণে মানুষ সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হয়। তাই শর্তাতীতভাবে পূর্বপুরুষের অনুসরণ করা যাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ যা নাজিল করেছেন, তোমরা তার অনুসরণ করো, তখন তারা বলে, বরং আমরা তারই অনুসরণ করব যার ওপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি। যদিও তাদের বাপ-দাদারা কিছুই জ্ঞান রাখত না এবং তারা সুপথপ্রাপ্ত ছিল না।

’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৭০)

কিছু মানুষ পূর্বপুরুষের মাধ্যমে বিভ্রান্ত হয়। পরকালে জাহান্নামিরা তাদের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহর কাছে স্বীকৃতি দেবে। তাদের বক্তব্য পবিত্র কোরআনে আল্লাহ এভাবে উল্লেখ করেছেন, ‘হে আমাদের রব! আমরা আমাদের নেতাদের ও বড়দের আনুগত্য করতাম। অতঃপর তারাই আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল। ’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৬৭)

পূর্ববর্তী বংশধরদের অন্ধ অনুসরণের কুফল সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের পন্থা পুরোপুরি অনুসরণ করবে, প্রতি বিঘতে বিঘতে এবং প্রতি গজে গজে। এমনকি তারা যদি সাপের গর্তেও ঢোকে তাহলে তোমরাও তাতে ঢুকবে। (বুখারি, হাদিস : ৩৪৫৬)

সুতরাং পূর্বপুরুষের অন্ধ অনুসরণের কারণে মানুষ সত্য পথ থেকে দূরে সরে যায়। এ জন্য পূর্বপুরুষসহ যেকোনো মানুষের অন্ধ অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর হকের পথে অবিচল থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে।

তবে পূর্বপুরুষ যদি হিদায়াতপ্রাপ্ত হন এবং সত্য পথের যাত্রী হন, তাহলে তাদের অনুসরণে দোষের কিছু নেই। বরং সেটিই কাম্য। পিতৃপুরুষের ভালো কাজগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যোগ্য উত্তরাধিকারীর বৈশিষ্ট্য। ইউসুফ (আ.)-এর ভাষ্যে কোরআনের বিবরণ এমন : ‘আমি [ইউসুফ (আ.)] আমার পিতৃপুরুষ ইবরাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবের মতবাদ অনুসরণ করি। আল্লাহর সঙ্গে কোনো বস্তুকে শরিক করা আমার কাজ নয়। এটা আমাদের ও সব মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। ’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৩৮)

মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন।
 

;