বিটিএস ভাঙ্গার খবরটি ভুয়া
বিটিএস ভাঙ্গার খবরটি ভুয়া

সংগৃহীত ছবি

বিটিএস ভাঙ্গার খবরটি ভুয়া

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশে মূলধারার একাধিক সংবাদমাধ্যমে ও কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কোরিয়ান পপ সুপারব্যান্ড ‘বিটিএস’ ব্যান্ডটির সদস্যরা একক ক্যারিয়ারে ফোকাস করার জন্য অনির্দিষ্টকালের বিরতি নিচ্ছেন বলে একটি খবর শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে,  নয় বছর পর ভেঙে যাচ্ছে বিটিএস।  ব্যান্ডের সদস্যরা ব্যক্তিগত পরিচয় তৈরি করার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগ শুরু করবেন বলেও জানানো হয় খবরে। প্রকৃতপক্ষে খবরটি আসলে ভুয়া।

শেয়ার করা খবরে বলা হয়, প্রায় এক দশক আগে ২০১৩ সালে ১৩ জুন প্রতিষ্ঠা হয় বিটিএস ব্যান্ড।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ৯ বছর উপলক্ষে গত ১০ জুন নতুন অ্যালবাম ‘প্রুফ’ প্রকাশ করে ব্যান্ডটি। সংকলিত অ্যালবামটিতে জায়গা পেয়েছে ২৮টি গান। অ্যালবামটি প্রকাশের পর যথারীতি আলোচনায় উঠে আসে। এর টাইটেল ট্র্যাক ‘ইয়েট টু কাম’ গানটি ব্যান্ডের বিগত সময়গুলোর যাত্রাকে উপস্থাপন করে। আর এর ভিডিওতে ব্যান্ডটির আগের গানগুলোর বিভিন্ন দৃশ্যেুর অনুকরণ রাখা হয়েছে। যা ইতোমধ্যে রেকর্ড ৩০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) ব্যান্ডটির ‘ফিস্টা’ নামক বার্ষিক একটি ডিনার পার্টি হয়। তারপরই ব্যান্ডটির অন্যতম সদস্য আরএম ব্যান্ডটির বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আমি সব সময় অন্য ব্যান্ডদের থেকে আলাদা করে ভেবেছি বিটিএস’কে। কিন্তু কোরিয়ান পপ (কে-পপ) ও আইডল পদ্ধতির সমস্যা হচ্ছে, এটা কখনোই পরিণত হতে দেয় না। আপনাকে এ জন্য সব সময় গান করতে হবে এবং কিছু না কিছু করতেই হবে।

ব্যান্ডটির সদস্য জিন বলেছেন, আমি অনুভব করেছি যে আমি একটি যন্ত্রের মতো। কেননা, আমি নির্দিষ্ট একটি দলের কার্যকলাপে নিজেকে মনোনিবেশ করতাম। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত শখ ও কিছু বিষয় রয়েছে, যা আমি পছন্দ করি।

এছাড়া ব্যান্ডটির আরেক সদস্য ভি বলেছেন, সত্যি বলতে আমি অনেকগুলো ভিন্ন বিষয়ে চেষ্টা করতে চাই। আমি আশা করি, আমার সংগীত প্রদর্শনের সুযোগ পাব এবং নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সংগীত ছাড়া অন্যসব জিনিস প্রদর্শনেরও সুযোগ পাব। এটা ভাবা ভুল ছিল বলে বিশ্বাস করতাম। কিন্তু এখন আমি যতটা সম্ভব নিজেকে বিকশিত করতে আগ্রহী।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— বিটিএস ব্যান্ডের সদস্য সুগা বলেছেন, আমরা এখন একটি বিরতিতে যাচ্ছি।

গান বিক্রি, স্ট্রিমিং এবং ডাউনলোড মিলে ২০২১ সালে বিশ্বের সফল সংগীতশিল্পী হিসেবে ‘গ্লোবাল রেকর্ডিং আর্টিস্ট অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পেয়েছে বিটিএস ব্যান্ড। ২০১৩ সাল থেকে নাচে-গানে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করে সাত তরুণের এই ব্যান্ডটি। বিটিএস বাংটান বয়েজ নামেও পরিচিত। দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকজন তরুণ ২০১০ সালে গঠন করে ব্যান্ডটি। যা ২০১৩ সালে বিগ হিট এন্টারটেইনমেন্টের অধীনে আত্মপ্রকাশ করে। ব্যান্ডটির সদস্য সংখ্যা সাতজন। যথাক্রমে জিন (ভোকালিস্ট), সুগা (র‌্যাপার), জে-হোপ (র‌্যাপার), আরএম (র‌্যাপার), জিমিন (ভোকালিস্ট), ভি (ভোকালিস্ট) ও জাংকুক (ভোকালিস্ট)।

 এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থা ফ্যাক্টওয়াচ এক প্রতিবেদনে বলছে, গত ১৪ই জুন বিটিএস ফেস্তা নামক ভোজসভায় মিলিত হয় ব্যান্ডের ৭ সদস্য ।   বিটিএস ফেস্তার পুরো আড্ডাটা ইউটিউবে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়। এই আড্ডায় বিটিএস সদস্যরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, অনেকের চোখে অশ্রু দেখা যায়, গত ৯/১০ বছর ধরে তাদের পথচলা এবং ভক্তদের সমর্থনের কথা স্মরণ করেন।

ভিডিও’র ২১ তম মিনিটে ব্যান্ড মেম্বার সুগা কোরিয়ান ভাষায় বলেন, আমরা একটি সাময়িক বিরতিতে যাচ্ছি । এরপর সদস্যরা তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সঙ্গীত ক্যারিয়ার এবং বিটিএস এর সঙ্গে কাটানো সময় নিয়ে কথা বলেন।

এই সূত্র ধরেই অনেক সংবাদমাধ্যম ধরে নেন, বিটিএস ভেঙে যাচ্ছে এবং সদস্যরা কেবলমাত্র একক ভাবে গান করবেন। তবে বিটিএস ব্যান্ডের স্বত্ত্বাধিকারী এইচওয়াইবিই এক বিবৃতে জানিয়েছে ,বিটিএস কোনো বিরতি নিচ্ছে না । এই মুহুর্তে সদস্যরা নিজেদের ব্যক্তিগত প্রজেক্টে বেশি মনোনিবেশ করবেন।  

এইচওয়াইবিই এর বিবৃতিকে কেন্দ্র করে বার্তা সংস্থা এপি, ইন্ডিয়া টিভি , টাইমস নাউ সহ অনেকেই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

তবে বিটিএস সদস্যদের নতুন কনসার্ট কিংবা নতুন প্রজেক্ট এর ব্যাপারে এখনই কিছু জানা যায়নি। বিটিএস এর অফিসিয়াল টুইটার একাউন্ট থেকেও ভাঙনের কোনো খবর নেই। সার্বিক বিবেচনায়, ‘ভেঙে গেল বিটিএস’ শীর্ষক এই খবরটিকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে ফ্যাক্টওয়াচ।  ফ্যাক্টওয়াচের তথ্য বিশ্লেষণ করে নিউজ টোয়েন্টিফোর এই সংক্রান্ত সংবাদের পুর্বের(ভেঙ্গে যাচ্ছে বিটিএস) তথ্যটি প্রত্যহার করে নিয়ে সঠিক তথ্যটি সংযুক্ত করে নিলো।  

news24bd.tv/আলী