সেতু নির্মাণে ‘তিন ভাগের এক ভাগ’ টাকা গেছে পদ্মার জলে
সেতু নির্মাণে ‘তিন ভাগের এক ভাগ’ টাকা গেছে পদ্মার জলে

সেতু নির্মাণে ‘তিন ভাগের এক ভাগ’ টাকা গেছে পদ্মার জলে

জয়দেব দাশ

খরোস্রোতা পদ্মানদীর উপর সেতু নির্মাণের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নদী শাসন। যে কাজটি করতে সরকারকে পুরো প্রকল্পের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ টাকা ঢালতে হয়েছে পদ্মার জলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীর তলদেশ থেকে পলি অপসারণ আর প্রমোত্তা পদ্মার গতিপথ ঠিক রাখাই ছিল কঠিন কাজ।

‘কীর্তিনাশা’ পদ্মার বুকে নতুন কৃর্তি ‘পদ্মাসেতু’।

উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিতে এই সেতু নদীপাড়ের তিন জেলা মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর আর শরীয়তপুরকে ছুঁয়ে গেছে। কিন্ত এই যাত্রা পথে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার মূল সেতু গড়তে দুই পাড়ের ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার নদীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রোকে। এই কাজে ত্রিশ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের ৮ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকাই ঢালতে হয়েছে পদ্মার জলে।

প্রতি সেকেন্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ঘণমিটার পানি প্রবাহের প্রমোত্তা পদ্মাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৮ লাখ টন বিশাল আকৃতির পাথর আর এক কোটি ৩৩ লাখ ব্লক। জিপিআরএস যুক্ত বিশ্বের সর্বাধুনিক ড্রেজিং মেশিনে নদীর তলদেশের পলি সারিয়ে বালি ভর্তি প্রায় পৌনে দুই কোটি জিও ব্যাগ বসিয়ে ঠিক করতে হয়েছে নদীর গতিপথ।

অ্যামাজনের পর বিশ্বের সবচেয়ে খরস্রোতা হিসেবে খ্যাত পদ্মা নদী শাসনের কাজটি করলেও সেতু নির্মাণে প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে সরকারকে। কারিগরি পরামর্শক দলের প্রধান জানান, মূলত মাওয়া প্রান্তেই পদ্মার রুদ্রমূর্তি ও বৈরি আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন তারা।

পদ্মা যেন তাঁর গতিপথ বাদলাতে না পারে সেজন্য গতিপথের পলি সরিয়ে নেওয়ার সাথে সাথে রক্ষা করতে হচ্ছে নদীর তীরও।

সেতু নির্মাণের পরও দীর্ঘদিন নদী শাসনের কাজটি অব্যাহত রাখতে হবে বলে জানান কারিগরি পরমর্শক দলের প্রধান।

news24bd.tv/তৌহিদ