প্রতিবেশী ধার চাইলে ফেরাতে নেই
প্রতিবেশী ধার চাইলে ফেরাতে নেই

প্রতীকী ছবি

প্রতিবেশী ধার চাইলে ফেরাতে নেই

মাইমুনা আক্তার 

মানুষ সামাজিক জীব। তারা সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করতেই পছন্দ করে। সমাজে একসঙ্গে চলতে গিয়ে তারা একে অপরের প্রতিবেশী হয়ে যায়। পাশাপাশি দুজন সৎ প্রতিবেশী বসবাস করলে তারা রক্তের সম্পর্কে আত্মীয় না হলেও আত্মার আত্মীয় ঠিকই হয়।

সুখে-দুঃখে পাশে থাকার মাধ্যমে প্রতিবেশীরাও মানুষের জীবনের অংশ হয়ে যায়।

আমাদের সমাজে অনেকে আছে সাধারণ বিষয়েও প্রতিবেশীকে ছাড় দিতে রাজি হয় না। প্রতিবেশীর কোনো উপকার করা তো দূরের কথা, উল্টো সুযোগ পেলে প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করে। এ ধরনের লোকদের ব্যাপারে রাসুল (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ না থাকে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৭৬)

একসঙ্গে বাস করতে গেলে মানুষের মাঝে মাঝে প্রতিবেশীর সাহায্যের প্রয়োজন হয়। কখনো ছোটখাটো জিনিস প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধার করতে হয়। এর প্রচলন পৃথিবীতে আদি যুগ থেকেই চলে আসছে। এমনকি রাসুল (সা.)-ও বিশেষ প্রয়োজনে ধার করেছেন। বিভিন্ন হাদিসে যার উল্লেখ আছে। আবদুল্লাহ ইবনে সাফওয়ানের পরিবারের কিছু ব্যক্তি সূত্র থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, হে সাফওয়ান! তোমার কাছে যুদ্ধাস্ত্র আছে কি? সে বলল, ধার চাইছেন, না জোরপূর্বক নেবেন? তিনি বলেন, না, বরং ধার হিসেবে। সাফওয়ান তাঁকে ৩০ থেকে ৪০টি লৌহবর্ম ধার দিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) হুনাইনের যুদ্ধে এগুলো ব্যবহার করলেন। মুশরিকরা পরাজিত হলে সাফওয়ানের লৌহবর্মগুলো একত্র করে দেখা গেল, কয়েকটি বর্ম হারিয়ে গেছে। নবী (সা.) সাফওয়ানকে বলেন, আমরা তোমার কয়েকটি বর্ম হারিয়ে ফেলেছি। আমরা তোমাকে এর ক্ষতিপূরণ দেব কি? সে বলল, না, হে আল্লাহর রাসুল! কারণ তখন আমার মনের অবস্থা যেমন ছিল আজ তেমন নেই। ইমাম আবু দাউদ (রহ.) বলেন, তিনি ইসলাম কবুলের আগে এগুলো ধার দিয়েছিলেন, পরে ইসলাম কবুল করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৫৬৩)

এ থেকে বোঝা যায়, কখনো কোনো প্রয়োজনে প্রতিবেশীর সহযোগিতা নেওয়ার অবকাশ আছে। এবং কোনো প্রতিবেশী কোনো কিছু ধার চাইলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়াও উচিত নয়। যেমন—গ্রামে এখন বিভিন্ন কাজে প্রতিবেশীদের থেকে দা, কোদাল, শাবল, বালতি ইত্যাদি ধার করতে হয়। যেহেতু এগুলো মানুষের প্রতিদিন প্রয়োজন হয় না, তাই অনেকেই এগুলো তৈরি করেন না। কেউ এ ধরনের ছোটখাটো জিনিস চাইলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়াকে পবিত্র কোরআনে খুব নিকৃষ্ট কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এবং এ ধরনের ছোটখাটো বিষয়ে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘(দুর্ভোগ তাদের জন্য)...এবং ছোটখাটো গৃহসামগ্রী দানে নিষেধ করে। ’ (সুরা : মাউন, আয়াত : ৭)

আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসুল (সা.)-এর যুগে ‘মাউন’ গণ্য করতাম বালতি, হাঁড়িপাতিল ইত্যাদি ছোটখাটো বস্তু ধারে আদান-প্রদান করাকে। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৬৫৭)

যুগের পরিবর্তনের কারণে আরো অনেক ছোটখাটো জিনিস এগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। যেগুলো আমাদের নিত্যদিনে প্রয়োজন হয়। আমাদের উচিত প্রতিবেশীদের কখনো এ রকম ছোটখাটো জিনিস প্রয়োজন হলে, যদি নিজের কাছে এগুলো থাকে, তাহলে তাদের সহযোগিতা করা।