ভারতে অব্যাহত বিক্ষোভের জেরে ১২ জেলায় ইন্টারনেট বন্ধ
ভারতে অব্যাহত বিক্ষোভের জেরে ১২ জেলায় ইন্টারনেট বন্ধ

সংগৃহীত ছবি

ভারতে অব্যাহত বিক্ষোভের জেরে ১২ জেলায় ইন্টারনেট বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক

সেনাবাহিনীতে অস্থায়ীভাবে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ভারতজুড়ে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১২টি ট্রেনে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ভাঙচুর চালানো হয়েছে স্টেশনে। এদিকে তেলেঙ্গানায় সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। এ ছাড়া বিহারে আন্দোলন রুখতে রাজ্যের ১২টি জেলায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে রাজ্যসরকার।  

আন্দোলনে ইউপিতেই আটক করা হয়েছে ২৬০ জনকে। বিহারে বিজেপি অফিস, গাড়ি ও স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়েছে।

 তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর নিরাপত্তারক্ষীর গুলিতে ২৪ বছর বয়সী যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতের পরিবারকে ২৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলেও নিশ্চিত করেছেন। খবর এনডিটিভির।

 দাউ দাউ করে জ্বলছে ট্রেনের একেকটি বগি। কুণ্ডলী পাকিয়ে উড়ছে ধোঁয়া। তীব্র ধোঁয়ার মধ্যেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন রেলের কর্মীরা। ইতোমধ্যেই পুড়ে গেছে ট্রেনের একাংশ। ভয়াবহ এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ভারতের বিহার রাজ্যে।
 
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অস্থায়ীভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুসছেন ভারতবাসী। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিহারে বিক্ষোভের একপর্যায়ে ট্রেনে আগুন দেন বিক্ষোভকারীরা। রেলপথ অবরোধ করে পোড়ানো হয় টায়ার।
 
'অগ্নিপথ' নামের ওই নিয়োগ পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে তেলেঙ্গানাতেও। এসময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন হতাহতের খবর পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার তেলেঙ্গানার সিকান্দারাবাদ রেল স্টেশনে বিক্ষোভে নামেন চাকরিপ্রার্থীরা। অবরোধ করে রাখেন রেলপথ। এতে টানা তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচল। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে তাদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছোড়ে পুলিশ। এ সময় ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। শুধু বিহার, তেলেঙ্গানা নয়, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, পশ্চিমবঙ্গসহ আরও বেশ কয়েকটি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ।

গত মঙ্গলবার ওই নিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছিলেন সেনাবাহিনীতে চাকরির স্বপ্ন দেখা বহু মানুষ। সেই অসন্তোষ থেকেই তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়।
 
'অগ্নিপথ' এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীতে অফিসার ব়্যাংকের নিচে চার বছরের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দেয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। আবেদনকারীদের বয়স ধরা হয় সাড়ে ১৭ বছর থেকে ২১ বছরের মধ্যে। তাদেরকে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাবও করা হয় এই চার বছর বয়সসীমার মেয়াদে। বলা হয়, সেখান থেকে ২৫ শতাংশকে স্থায়ীভাবে সশস্ত্র বাহিনীতে নেয়া হবে। বাকিদের নেয়া হবে না। তারা বেতন পেলেও অবসরকালীন কোনো সুবিধা পাবেন না। আর এ নিয়েই তীব্র আপত্তি তোলে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চাওয়া নাগরিকরা।
 
আগে ভারতের সশস্ত্র, নৌ এবং বিমানবাহিনী আলাদাভাবে সদস্য নিয়োগ করত। তারা সাধারণত নিম্নপদে ১৭ বছরের জন্য নিয়োগ পেতেন। কিন্তু এবার মাত্র চার বছর চাকরি করার পর সদস্যরা কোথায় যাবে সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

news24bd.tv/আলী