যার পক্ষ থেকে বদলি হজ করানো যাবে
যার পক্ষ থেকে বদলি হজ করানো যাবে

প্রতীকী ছবি

যার পক্ষ থেকে বদলি হজ করানো যাবে

মারজিয়া আক্তার

কোনো ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হয়েছে, তিনি হজের সময়ও পেয়েছে; কিন্তু কোনো কারণবশত হজ করতে পারেনি। এরপর এমন ওজর বা প্রতিবন্ধকতা এসে গেল যে তিনি নিজে গিয়ে হজ করার ক্ষমতা আর রইল না অথবা এমন অসুস্থ হয়ে পড়ল, যা থেকে আর সুস্থ হওয়ার আশা নেই অথবা অন্ধ বা প্রতিবন্ধী হয়ে গেল বা বার্ধক্যের দরুন এমন দুর্বল হয়ে গেল যে এখন তার পক্ষে সফর করা সম্ভব নয়, তখন তার জন্য নিজের পক্ষ থেকে কাউকে পাঠিয়ে বদলি হজ করানো, অথবা মৃত্যুর পর তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তার নামে বদলি হজ করিয়ে দেওয়া অসিয়ত করা ফরজ।

বদলি হজ করানোর বিষয়ে ব্যাখ্যা হলো, যে সমস্যার কারণে বদলি হজ করানো হলো যদি উক্ত সমস্যা বদলি হজ করানোর পর দূর হয়ে যায়, তাহলে পুনরায় নিজে তার হজ আদায় করা ফরজ হয়ে যাবে। আর আগের বদলি হজটি তার নফল হয়ে যাবে।

(আহকামে হজ : ১১৮)

বদলি হজ কে করতে পারবে?

হানাফি মাজহাব মতে, যে ব্যক্তি এখনো নিজের হজ করেনি, সেও কারো পক্ষ থেকে বদলি হজ করতে পারবে। তবে মাকরুহ হবে। (আপকে মাসায়েল : ৪/৬৯)

যে ব্যক্তি এখনো নিজের হজ করেনি, তাকে হজে পাঠানো মাকরুহ তানজিহি অর্থাৎ অনুত্তম। তার পরও যদি হজে যায়, তাহলে বদলি হজ আদায় হয়ে যাবে। অতএব, এমন মানুষকে পাঠানো উচিত যিনি একবার হজ করেছেন। চাই সে ধনী হোক বা দরিদ্র। এ বিষয়ে ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য নেই। (আপকে মাসায়েল : ৪/৭৬, ফাতাওয়া দারুল উলুম : ৬/৫৭৩, কিতাবুল ফিকহ : ১/১৩২২)

কোনো নারীর পক্ষ থেকে বদলি হজ করাতে হলে অন্য নারী দিয়েই করাতে হবে—এমন কোনো আবশ্যকতা নেই। বরং নারীর পক্ষ হতে পুরুষও বদলি হজ করতে পারবে এবং পুরুষের পক্ষ থেকে নারীও হজ করতে পারবে। (আপকে মাসায়েল : ৪/৭৫)

নাবালেগ (অপ্রাপ্তবয়স্ক) বদলি হজ করতে পারবে না। (আপকে মাসায়েল : ৪/৭৭)

নারী ও দাসও বদলি হজ করতে পারবে। (কিতাবুল ফিকহ : ১/১১৬৬)

সম্পর্কিত খবর