‘বাড়ি চলো’ ক্যাম্পেইনে রোহিঙ্গাদের বাড়ি ফেরার উদ্যোগ
‘বাড়ি চলো’ ক্যাম্পেইনে রোহিঙ্গাদের বাড়ি ফেরার উদ্যোগ

‘বাড়ি চলো’ ক্যাম্পেইনে রোহিঙ্গাদের বাড়ি ফেরার উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক

‘নিরাপত্তা খোঁজার অধিকার সবার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০ জুন পালিত হলো আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবস। বিশ্বব্যাপী দিনটি পালিত হয়েছে। দিবসটি কেন্দ্র করে কক্সবাজারের শরণার্থীশিবিরে ‘গো হোম’বা ‘বাড়ি চলো’ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। লাখো রোহিঙ্গাদের বাড়ি ফেরার এমন আকুতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর কাড়বে বলে আশাবাদী রোহিঙ্গারা।

‘বাড়ি চলো’ক্যাম্পেইন বা প্রচারণা চালাচ্ছেন মূলত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের নেতারা। তবে প্রথম এই ‘আন্দোলন’ গড়ে তোলেন প্রয়াত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ মাস্টার। মুহিবুল্লাহ নির্মমভাবে খুন হওয়ার ছয় মাস আগে থেকে শুরু করেন এটি। তাঁর মৃত্যুর পর এটি চালিয়ে নিচ্ছেন তাঁরই সহকর্মীরা। ইংরেজি, বর্মিজ ও রোহিঙ্গা—তিনটি ভাষায় তাঁরা ব্যানার-প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করছেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘আমরা মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের (বর্তমান রাখাইন রাজ্য) রোহিঙ্গা জাতি। অনেক বছর ধরে বাংলাদেশের আশ্রয়ে আছি। সে থেকেই রোহিঙ্গাদের জন্মভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়নি মিয়ানমার। ফেরত নিয়ে যাওয়ার আইনি সরকারও নেই মিয়ানমারে। সুতরাং আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে হবে। চলো বাড়ি ফিরে যাই। ’

বেশ কয়েক দিন ধরেই আরাকানে ফিরে যেতে রোহিঙ্গা সমাবেশ, মিছিল ও প্রচার-প্রচারণার মধ্য দিয়ে বাড়ির ফেরার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছে রোহিঙ্গারা। ১৯ জুন কক্সবাজারের ৩৪টি ক্যাম্পে বিশাল সমাবেশে যোগ দিয়েছে লাখো রোহিঙ্গা। গণহত্যার শিকার এই জনগোষ্ঠীটি আবারো নিজ দেশে নিজ বাসভূমিতে ফিরে যেতে চায়, সেই দাবিই জোরালো করলো আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাদের এই দাবির ব্যাপক সমর্থন এসেছে। বিশ্ব শরণার্থী দিবসে রোহিঙ্গাদের বাড়ি ফেরার এ আকাঙ্ক্ষা দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এটাই আয়োজকদের প্রত্যাশা।

দীর্ঘ পাঁচ বছর বাংলাদেশের শরণার্থীশিবিরে থাকতে থাকতে রোহিঙ্গাদের ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করছে দ্রুতই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা এরই মধ্যে তাঁদের হতাশ করেছে। তাই নিজ উদ্যোগেই তারা এবার বাড়ি ফিরতে চান। ‘বাড়ি চলো’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে ১৭ দফা দাবিও তুলে ধরেছেন রোহিঙ্গারা, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রোহিঙ্গা স্বীকৃতি প্রদান, অবিলম্বে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন বাতিল, আরটুপির অধীন আরাকানে আন্তর্জাতিকভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ট্রানজিট ক্যাম্পে অবস্থানকাল কমানো এবং প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাতিসংঘসহ উল্লেখযোগ্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের সক্রিয় ভূমিকা পালন।

ব্যানার প্ল্যাকার্ডে ইংরেজি ও বর্মিজ ভাষার ব্যবহার এবং রোহিঙ্গাদের ১৭ দফা দাবির মাধ্যমে তাঁরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি; বরং তাঁদের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ। তাঁদের নিজ উদ্যোগের ঘোষণা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতার প্রতিফলন এবং তাদের হতাশার বহিঃপ্রকাশমাত্র। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে রোহিঙ্গাদের এই ‘বাড়ি চলো’ উদ্যোগকে আমলে নেওয়া।

‘বাড়ি চলো’ রোহিঙ্গাদের ক্রমবর্ধমান হতাশার বহিঃপ্রকাশ এবং আমাদের ব্যর্থতার ফলাফল। এটি রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক সচেতনতার উদাহরণ এবং কালেক্টিভ মেমোরিরও চিহ্ন বটে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে ক্যাম্পেইনটির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা। মিয়ানমারের গত পাঁচ বছরের কূটনীতি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী নয়, বরং তাদের লক্ষ্য সমস্যা দীর্ঘায়িত করা। এর অবসান চায় রোহিঙ্গারা।

news24bd.tv/তৌহিদ