ধর্ষণ বাড়ায় পাঞ্জাবে জরুরি অবস্থা জারি
ধর্ষণ বাড়ায় পাঞ্জাবে জরুরি অবস্থা জারি

ধর্ষণ বাড়ায় পাঞ্জাবে জরুরি অবস্থা জারি

অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে নারী ও শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। আর এতেই জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রাদেশিক সরকার।

এক সাক্ষাৎকারে পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আতা তারার এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘নারী ও শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন বেড়েছে।

এসব ঘটনার বৃদ্ধি সমাজ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি গুরুতর সমস্যা। আর এ সসম্যা মোকাবেলার জন্য রাজ্য সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। ’

পাকিস্তানি টেলিভিশন জিওকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, পাঞ্জাবে প্রতিদিন ৩-৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। যৌন নির্যাতন, অপব্যবহার এবং জবরদস্তি নিয়ে রাজ্য সরকার বিশেষভাবে দেখছে। ’

এ বিষয়ে সুশীল সমাজ, নারী অধিকার সংগঠন, শিক্ষক ও আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে বলে জানান আতা তারার। এ ছাড়াও অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের নিরাপত্তার গুরুত্ব শেখানোর আহ্বান জানান তিনি।

অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে জানিয়ে পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ধর্ষণ বিরোধী অভিযান শুরু করেছে। নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা এ ধরনের কাজ করছ তারা সাবধান হয়ে যাও। ’

লিঙ্গ বৈষম্য ও নারীদের ওপর নির্যাতনের দিক থেকে বিশ্বের ওপরের দিকে রয়েছে পাকিস্তান। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে দেশটির সরকার।

বিশ্বব্যাপী লিঙ্গ বৈষম্য নিয়ে কাজ করা গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপের র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী, ২০২১ সালে ১৫৩তম অবস্থানে ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি। শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক, আফগানিস্তান ও ইয়েমেন তাদের পেছনে ছিল।

এক রির্পোটে ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ফর রাইটস অ্যান্ড সিকিউরিটি (আইএফএফআরএএস) জানায়, গত চার বছরে পাকিস্তানে ১৪ হাজার ৪৫৬ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল পাঞ্জাবে।

দেশটির মানবাধিকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০১৮ সালে কর্মক্ষেত্রে পাঁচ হাজার ৪৮, ২০১৯ সালে চার হাজার ৭৫১, এর পরের বছর অর্থ্যৎ ২০২০ সালে চার হাজার ২৭৬ ও ২০২১ সালে দুই হাজার ৭৮ নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

news24bd.tv/মামুন

;