শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ০৯ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে

‘আমাকে ক্রয়ফায়ারে দিতে চেয়েছিলেন ওসি’

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

‘আমাকে ক্রয়ফায়ারে দিতে চেয়েছিলেন ওসি’

পকেটে ইয়াবা ও অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার চেষ্টাও চালিয়েছিল বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রামের শিক্ষানবিশ আইনজীবী সমর কৃষ্ণ চৌধুরী।

সদ্য জামিনে মুক্ত ষাটোর্ধ্ব এই ব্যক্তি এই দাবির পাশাপাশি বোয়ালখালী থানা হাজতে তার ওপর নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছেন।বোয়ালখালীর ওসি হিমাংশু দাশ রানাসহ থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন তিনি।যদিও সমর চৌধুরীকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন ওসি হিমাংশু দাশ। 

বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, ‘এই ধরনের অভিযোগ আমিও পেয়েছি। মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েছেন সমর চৌধুরী।’

অভিযোগ তদন্তের জন্য অতিরিক্ত এসপি (চট্টগ্রাম দক্ষিণ) এবং অতিরিক্ত এসপিকে (পটিয়া সার্কেল) দায়িত্ব দিয়েছেন জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়ে গেছে। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জামিনে মুক্ত হলেও সমর চৌধুরীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত তার পরিবার।সমরের বড় মেয়ে বলেন, ‘গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সমর্থন থাকায় বাবাকে ফিরে পেয়েছি। কিন্তু তার ভবিষ্যত নিয়ে আমরা শঙ্কিত।

সমর চৌধুরী চট্টগ্রাম শহরে থাকলেও তার বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামে। ওই গ্রামের লন্ডনপ্রবাসী সঞ্জয় দাশের সঙ্গে তার কাকা স্বপন দাশের জমি নিয়ে বিরোধ আছে। স্বপন দাশকে আইনগত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছিলেন সমর চৌধুরী।

ওই ঘটনার জের ধরে সঞ্জয় দাশের প্ররোচনায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি মনির-উজ-জামানের নির্দেশে সমরকে গেল ২৭ মে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর তাকে ইয়াবা ও অস্ত্র মামলার আসামি করা হয়।

সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে সমর চৌধুরীকে ইয়াবা আটকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এই অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মৃত্যু নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলে আসছে।

সমর চৌধুরীকে ঘটনাটি প্রকাশ পেলে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। এর মধ্যেই ডিআইজি মনির-উজ-জামানকে চট্টগ্রাম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

কারাগার থেকে মুক্তির পর সমর চৌধুরী গণমাধ্যমকে তার ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দেন।তিনি জানান, পুলিশ তার হাতে থাকা একটি স্বর্ণের ও একটি রূপার আংটি, মোবাইল সেট, নগদ ১২ হাজার টাকা ও মানিব্যাগ কেড়ে নিয়ে হাজতে আটকে রাখে।ওই সময় তার কয়েকজন স্বজন থানায় গেলেও তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ‘রাতের বেলায় আমি ওসি হিমাংশু দাশকে দেখে তার পা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করি। তাকে বলি, তার দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী স্বপন দাশের সাথে আর কোনো যোগাযোগ রাখিনি। এ সময় ওসি হিমাংশু আমাকে লাথি দিয়ে মাটিতে ফেলে দিলে মাথা ফেটে যায়। পরে পাশে দাঁড়ানো দুই কনস্টেবল আমার হাতে অস্ত্র ধরিয়ে দিয়ে ছবি তোলে।’

ওই সময় পুলিশের এক এসআই তাকে প্রসাব খাওয়াতে চেয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন এই শিক্ষানবিশ আইনজীবী।

‘ওসি হিমাংশু বলে, শালাকে ফেলে দিয়ে আয়। এরপর হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে আমাকে গাড়িতে তোলা হয়। ওইসময় আমি আমার মেয়ে ও স্ত্রীর কী হবে বলে আকুতি করলে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।’

গাড়িতে করে তাকে চরণদ্বীপ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানান সমর। চোখ বাঁধা অবস্থায় কী করে চরণদ্বীপ বুঝলেন- প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ড্রাইভার কোথায় যাবে জানতে চাইলে তাকে বলেছিল, চরণদ্বীপ নিয়ে যেতে।’

সমর আরও বলেন, ‘আমি হ্যান্ডকাফটা একটু হাল্কা করে দিতে বললে একজন বলে, আর ২-৩ মিনিট আছে। তারপর তোকে তো বেহশতে পাঠিয়ে দেব’।

‘চরণদ্বীপ এলাকায় নিয়ে গিয়ে আমার চোখ খুলে দিয়ে চলে যেতে বলে। ওই সময় আমার মনের মধ্যে ভয় চলে আসে। আমি না গিয়ে তাদের সাথে দাঁড়িয়ে থাকি এবং ঠাকুরের নাম জপ করতে থাকি।’ 

সমরের ভাষ্য, ‘শেষ পর্যন্ত কিভাবে বেঁচে ফিরে এলাম, সেটা এখনো নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারিনা।’


অরিন/নিউজ টোয়েন্টিফোর


 

মন্তব্য