রাশিয়া ২ লাখ টন গম রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে: খাদ্যমন্ত্রী
রাশিয়া ২ লাখ টন গম রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে: খাদ্যমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

রাশিয়া ২ লাখ টন গম রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে: খাদ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

গম আমদানির বিষয়ে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এর মধ্যে রাশিয়া বাংলাদেশে ২ লাখ টন গম রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে। ভারত থেকেও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গম আমদানির বিষয়ে কথা চলছে।   বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শফিউল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।  

প্রতিবেশী দেশ ভারত গম রপ্তানি বন্ধ করায় চাহিদা মেটাতে রাশিয়ার দ্বারস্থ হচ্ছে বাংলাদেশ। রাশিয়া থেকে প্রায় ২ লাখ টন গম আমদানি করতে পারে বাংলাদেশ। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়। এই বিষয়টিই আজ সংসদে নিশ্চিত করলেন খাদ্যমন্ত্রী।  

এমপি শফিউল ইসলামের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন খাদ্যশস্যের সঙ্গে গম ও আটার দাম বেড়ে যাওয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গম আমদানির জন্য বিভিন্ন রপ্তানিকারক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে রাশিয়া ২ লাখ টন গম রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে। এ ছাড়া ভারত থেকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গম আমদানির লক্ষ্যে দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ’ 

আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য আলী আজমের এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক খাদ্যশস্যের (চাল ও গম) মোট উৎপাদন ৩৮৬ দশমিক ৯৩ লাখ টন (চাল ৩৭৬ দশমিক ০৮ লাখ টন ও গম ১০ দশমিক ৮৫ লাখ টন) চূড়ান্ত করা হয়েছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রাক্কলিত খাদ্যশস্যের মোট উৎপাদনের পরিমাণ ৪০১ দশমিক ৩৬ লাখ টন। এর মধ্যে চাল ৩৮৯ দশমিক ১০ লাখ টন এবং গম ১২ দশমিক ২৬ লাখ টন)। বিবিএস পরিচালিত হাউসহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে অনুসারে, দৈনিক মাথাপিছু গড় খাদ্যশস্য গ্রহণের পরিমাণ ৩৮৭ গ্রাম। এর মধ্যে চাল ৩৬৭ দশমিক ২ গ্রাম এবং গম ১৯ দশমিক ৮ গ্রাম।  

একই প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী আরও জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের জনসংখ্যা ১৬৯ দশমিক ৩০ মিলিয়ন (১৬ কোটি ৯৩ লাখ) হলে মোট খাদ্যশস্যের প্রয়োজন ছিল ২৩৯ দশমিক ১৪ লাখ টন (চাল ২২৬ দশমিক ৯০ লাখ টন এবং গম ১২ দশমিক ২৪ লাখ টন) যা ২০২০-২১ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মোট উৎপাদনের তুলনায় কম। আবার দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৭ বিবেচনায় ২০২২ সালের ১ জানুয়ারিতে দেশের মোট জনসংখ্যা দাঁড়ায় ১৭১ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন (প্রাক্কলিত) বা ১৭ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার। সে হিসাবে ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে খাদ্যশস্যের মোট চাহিদা হবে ২৪২ দশমিক ৩০ লাখ টন, সেটিও অর্থবছরে খাদ্যশস্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। সুতরাং চাহিদা অনুযায়ী দেশে খাদ্যশস্যের ঘাটতি নেই।  

মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে গত ২০ জুন সর্বমোট ১৫ লাখ ২১ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত ছিল। খাদ্যগুদামে শস্যের মজুত আরও বৃদ্ধির জন্য অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট ২০ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান এবং বৈদেশিক উৎস থেকেও গম আমদানির কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। ’
news24bd.tv/আলী