মোংলা ইপিজেডে বাড়ছে আরো বিদেশি বিনিয়োগ
মোংলা ইপিজেডে বাড়ছে আরো বিদেশি বিনিয়োগ

পদ্মা সেতু চালুর সুখবর

মোংলা ইপিজেডে বাড়ছে আরো বিদেশি বিনিয়োগ

শেখ আহসানুল করিম, বাগেরহাট

কাল (শনিবার) দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক কোটি স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হলে বাগেরহাটের মোংলা ইপিজেডে আরও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানিও বাড়বে বহুগুণ। পদ্মা সেতুর কারণে নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা কারণে এই ইপিজেডে আরও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ নতুন নতুন কারখানাও তৈরি হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে (২০২২-২৩) বিনিয়োগ বেড়ে হবে ২৫ মিলিয়ন বা ২২৫ কোটি টাকা। পণ্য রপ্তানি হবে ১৮০ মিলিয়ন ইউএস ডলার বা ১ হাজার ৬২০ কোটি টাকার।

মোংলা ইপিজেড কর্তৃপক্ষ এমন সুখবরটি নিশ্চিত করেছেন।

বাগেরহাটে দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মোংলায় ১৯৯৮ সালে চারটি কারখানার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল মোংলা ইপিজেডের যাত্রা। শুরুর দিকে মোংলা ইপিজেড বিনিয়োগ টানতে না পারলেও এখন কর্মচাঞ্চল দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র এই মুক্ত বাণিজ্য ক্ষেত্রে। ৩০৩ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত দেশের পঞ্চম বৃহত্তম এই ইপিজেডে গার্মেন্টস, মার্বেল টাইলস, পাটজাত দ্রব্য, ট্রাভেলব্যাগ, ক্রোকারিজ, রিফাইন পাম অয়েল, ব্যাটেলনাট ও গার্মেন্টস এক্সেসরিজসহ দেশি-বিদেশি মোট ৩১টি কারখানা চালু রয়েছে। এসব কারখানার আটটি বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের এবং বাকিগুলো চীন, কোরিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বিনিয়োগকারীদের। পাশাপাশি কোরিয়ান তিনটি ও চীনের একটি মিলে আরও চারটি বিদেশি
বিনিয়োগকারীর কারখানা চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও ৬২টি নতুন প্লট প্রস্তুত করা হচ্ছে।

মোংলা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক শুক্রবার বিকালে জানান, পদ্মা সেতু চালুর ফলে মোংলা ইপিজেডে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চাপ সামলা দিতে আরও ৬২টি নতুন প্লট প্রস্তুত করা হচ্ছে। স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় মোংলা বন্দর ও মোংলা ইপিজেডের সাথে সড়ক পথের রাজধানী ঢাকা দূরত্ব কমে দাঁড়াবে ১৭০ কিলোমিটার। পদ্মা সেতুর কারণে নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা কারণে এই পথ হয়েছে মাত্র ৩ ঘণ্টার। যা আগে ছিল ৯ থেকে ২০ ঘণ্টার। যোগাযোগ ব্যবস্থার দূরত্ব কমে আসায় ব্যবসায়ীদের জন্য দারুণ এক সুযোগ তৈরি হয়েছে। মোংলা ইপিজেডে চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে এখানে বিনিয়োগ হয়েছে ১৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার বা ১৪৪ কোটি টাকা। আর পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১৪৩ মিলিয়ন ইউএস ডলার বা ১ হাজার ২৮৭ কোটি টাকার। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এই ইপিজেডে আগামী অর্থবছরে বিনিয়োগ হবে ২৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার বা ২২৫ কোটি টাকা। রপ্তানি হবে ১৮০ মিলিয়ন ইউএস ডলার বা এক হাজার ৬২০ কোটি টাকার পণ্য। আরও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ নতুন নতুন কারখানাও তৈরি হচ্ছে।

মোংলা ইপিজেডে কোরিয়ান বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ডং ইয়ং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জং কুন পার্ক জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় লাভবান হয়েছে আমাদের কোম্পানি। কারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রæত হওয়ায় আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। মোংলা ইপিজেড বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য একটা আকর্ষণীয় ক্ষেত্র হয়েছে।  এর ফলে তাদের দেশের ব্যবসায়ী বন্ধুরা এই ইপিজেডে বিনিয়োগ করবেন মনে করেন তিনি।

চীনা শিল্প প্রতিষ্ঠান জিন লাইট বাংলাদেশের জেনারেল ম্যানেজার ইয়ং জহং জানান, পদ্মা সেতু দিয়ে এখন ঢাকায় গিয়ে মিটিং করে আবার দিনের মধ্যে মোংলায় ফিরে আসা যাবে। এ ছাড়া সেতুর কারণে তাদের সময় এবং খরচ কমছে। ইতোমধ্যে এই ইপিজেডে বিনিয়োগ করতে তাদের দেশের (চীন) ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হয়েছেন বলে জানান এই বিদেশি বিনিয়োগকারী।

এস জি অয়েল রিফাইনার্স লিমিটেডের পরিচালক প্রফুল্ল কুলকার্নি ও শিকাগো ইন্ডাস্ট্রিজ বি এ লিমিটেডের কান্ট্রি হেড ফেরদৌস জাহান সাজি জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় তাদের ব্যবসাতে অনেক উন্নতি হবে। এ ছাড়া এই ইপিজেডে যত বিনিয়োগকারী আছেন সেতুর কারণে তারাও অনেক উপকৃত হবেন।

news24bd.tv তৌহিদ