'আমরাও পারি'
'আমরাও পারি'

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন

'আমরাও পারি'

অনলাইন ডেস্ক

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সক্ষমতার বহি:প্রকাশ আজ বিশ্বের দরবারে। সব ষড়যন্ত্রকে অতিক্রম করে নিজ অর্থায়নে নির্মিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ সক্ষমতার প্রতীক। এর মধ্য দিয়ে অপমানের প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে। নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু হয়েছে এ কথা স্মরণ করিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরাও পারি।

আজ শনিবার দুপুর ১২টায় স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মাধ্যমে ইতিহাসের মাইলফলকে বাংলাদেশের স্বপ্নের দুয়ার খুললো আরেক বার।

পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে দাতা সংস্থাগুলো সরে গিয়ে বাঙালি জাতিকে অপমান করেছিল। দুর্নীতির অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ মাথা নত করেনি।

কি দুঃসময়, কি চ্যালেঞ্জ, দেশে-বিদেশের চক্রান্ত—সবকিছুকে অতিক্রম করে পদ্মা সেতুর অস্তিত্ব যেন আজ বাঙালি বীরের জাতিরই অস্তিত্ব।  

পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করাই ছিল চ্যালেঞ্জের। এপার-ওপার দুপার ভাঙে, স্রোতে সেতুর নির্মাণসামগ্রী ভাসিয়ে নিয়েছে। শুরুতে কাজ ছিল কঠিন। পদ্মার দুই পারের মানুষ ফসলি জমি, পৈতৃক সম্পত্তি ত্যাগ করেছেন অনেকেই। এই সেতু নির্মাণে ৫ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-শ্রমিক জড়িত ছিলেন। এই সেতু ১০০ বছরের স্থায়িত্বের হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।

এই সেতু উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে স্যালুট জানাই। অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে, সেজন্য দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি। এছাড়াও পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শেখ হাসিনা। নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত জানানোর পর বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, সে কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেকথা স্মরণ করিয়ে আবারো বলেন,  ‘আমরাও পারি। কিভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয় জাতির পিতা আমাদের শিখিয়ে গেছেন।  

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু। মাওয়া থেকে জাজিরা। পদ্মা সেতু সড়ক, রেল, গ্যাস, বিদ্যুতের সংযোগ ঘটাবে উত্তরের সঙ্গে দক্ষিণের। নির্মাণের বিশাল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে আছে সংযোগ সড়ক, রেল সংযোগ, নদীশাসন, পুনর্বাসন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা—নানা প্রকল্প ও কর্মকাণ্ড।

পদ্মা সেতু দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি জেলাকে সড়কপথে সরাসরি সংযুক্ত করেছে। কংক্রিট আর ইস্পাতের কাঠামোয় পদ্মা নদীর দুই প্রান্তের সামাজিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের সেতুবন্ধন ঘটছে। তবে এই সেতু শুধু একটি বড় অবকাঠামো নয়, এটি বিদেশি অর্থায়ন ছাড়া প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত বাংলাদেশের একটি ‘মেগা’ প্রকল্প। এটি প্রমত্ত পদ্মার বুকে কারিগরি নানা জটিলতা কাটিয়ে নির্মাণ করা একটি সেতু। এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর মানুষ ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান।

news24bd.tv/শুভ