যে রায়কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে তুলকালাম কাণ্ড
যে রায়কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে তুলকালাম কাণ্ড

সংগৃহীত ছবি

যে রায়কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে তুলকালাম কাণ্ড

অনলাইন ডেস্ক

গর্ভধারণের প্রথম ২৮ সপ্তাহের মধ্যে যদি কোনো শিশুর মৃত্যু হয় তাকেই গর্ভপাত বলা হয়। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী নারীরা গর্ভপাত করতে পারবে বলে ৫০ বছর আগের এক মামলার রায়ে গর্ভপাতকে বৈধ করেছিল দেশটির আদালত । তবে ২০২২ সালে এসে ওই রায়েকে ‘গুরুতর রকমের ভুল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

বিচারকদের ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এ রায় দেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

জাতীয় আইনটি বাতিল করে আদেশে বলা হয়েছে, এখন অঙ্গরাজ্যগুলো নিজেদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গর্ভপাতের অনুমতি প্রদান অথবা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আইন করতে পারে। দেশটির উচ্চ আদালতের রায়ের পর থেকেই তুলকালাম কাণ্ড ঘটে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশটিতে।

রায়ের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি রাজ্যে গর্ভপাতকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করতে আইন ও সংবিধান সংশোধনের মতো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিলো। আর সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর এটি দ্রুত কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর বাকি রাজ্যগুলোতেও শিগগিরই গর্ভপাতের ওপর বিধিনিষেধ বা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

গত শুক্রবারের এ রায়ের পরেই দেশটিতে বন্ধ হতে শুরু করেছে গর্ভপাত করানোর ক্লিনিকগুলো। আর রায়ের পক্ষে বিপক্ষের লোকজন নেমেছে রাজপথে। কিছু জায়গায় রায়ের বিপক্ষের লোজকনের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি হয়েছে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে দেশটির পুলিশ।  

রায় নিয়ে সরব রাজনৈতিক দলগুলো। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রায়টিকে `নিষ্ঠুর' বলে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে  বিক্ষোভ-প্রতিবাদ শুরু করতে অধিকারকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে উল্টো দিকে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ঈশ্বরই এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

মূলত ৫০ বছরের পুরনো একটি মামলা নিয়েই তুলকলাম এই কাণ্ড। ওই রায়ে গর্ভপাতকে বৈধ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে ৫০ বছর পরে সেই মামলাটির রায়কে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মামলাটি জো বনাম ওয়েড নামে পরিচিত।

১৯৭০ এর দিকে টেক্সাস রাজ্যে গর্ভপাত ছিল অসাংবিধানিক ও নিষিদ্ধ। এটিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতো। তবে ৭০ সালে ২৫ বছর বয়সী এক অবিবাহিত মার্কিন নারী জেন রো (ছদ্মনাম)টেক্সাস গর্ভপাত আইনটিকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন। ধর্ষণে গর্ভধারণ হয়েছে এমন দাবি করা মামলাটি সেই থেকেই রো বনাম ওয়েড নামে পরিচিত হয়ে যায়।

ওই সময় আদালত থেকে মামলাটিকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। ফলে সন্তানটির জন্ম দিতে বাধ্য হন জেন রো।

১৯৭৩ সালে মামলাটি আদালতে তোলা হয়। ওই সময় এটির সঙ্গে স্যান্ড্রা বেনসিং (২০) নামে আরেক নারীর আরেকটি মামলারও শুনানি হয়। এতে দুই নারী বলেন, টেক্সা্স ও জর্জিয়ার গর্ভপাত সংক্রান্ত আইন মার্কিন সংবিধানের বিরোধী- কারণ এটি একজন নারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করেছে।

ওই সময় ৯ বিচারপতির মধ্যে সাতজনই ওই দুই নারীর পক্ষে ভোট দেয়। বিচারপতিরা রায় দেন যে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সরকারগুলোর নেই। তবে ২০২২ সালে এসে রায়টিকে ভুল বলছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালত।  
news24bd.tv/মামুন