সিলেটে বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন, সংস্কার ব্যয়ে দুশ্চিন্তা
সিলেটে বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন, সংস্কার ব্যয়ে দুশ্চিন্তা

সংগৃহীত ছবি

সিলেটে বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন, সংস্কার ব্যয়ে দুশ্চিন্তা

অনলাইন ডেস্ক

সিলেটে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও মানুষের সংকট কাটেনি। ত্রাণের জন্য এখনো ছুটছেন মানুষ। বন্যাকবলিত এলাকায় জিনিসপত্রের দাম স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাড়ালেও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নেই কোন কার্যকর পদক্ষেপ। অর্থনৈতিক সংকটে পানিতে প্লাবিত বিধ্বস্ত বাড়িঘর পুনরায় সংস্কার করতে সিলেট প্রশাসনের দুচিন্তা কাটছে না।

সব মিলিয়ে মানুষ আছেন বেকায়দায়।

বেসরকারি সংস্থা, সংগঠন কিংবা ব্যক্তি এখনো সরাসরি ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছেন স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি। দক্ষতার সঙ্গে দ্রুত, কার্যকর ও সমন্বিত ত্রাণ তৎপরতার পাশাপাশি বিধ্বস্ত বাড়িঘর সংস্কার ও পুনর্বাসনের বিষয়টি দ্রুত দেখার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি স্থানীয়দের।
 
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সিলেটের সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, দেশে যেহেতু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আছে, তাই সে মন্ত্রণালয় থাকা মানেই হচ্ছে তাদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে হবে। হঠাৎ বন্যা এল, আর বলা হলো প্রশাসন প্রস্তুত নয়। এটা অন্যের ক্ষেত্রে মানা যায়, কিন্তু প্রশাসনের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই মানা যায় না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সার্বিক প্রস্তুতি থাকাটাই হচ্ছে তাদের কাজ।

সরকারি হিসাব বলছে, সিলেট জেলায় বন্যায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৪ হাজার ৯৫৪টি। রোববার দুপুর পর্যন্ত সিটি করপোরেশন ও জেলার ১৩টি উপজেলার ৫৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৯ হাজার ৭৭২ জন আশ্রিত মানুষ ছিলেন। আশ্রিত লোকদের অধিকাংশেরই বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।  
বাড়িঘরে পানি থাকায় এখনো অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আছে। পৌর শহরের মানুষ বাড়িঘরে ফিরতে পারলেও গ্রামের অনেকেই পারছে না।

এখনো জেলার জগন্নাথপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় পানিবন্দী মানুষ আছে। এসব উপজেলার নিচু এলাকায় বাড়িঘর, রাস্তাঘাটে আছে বন্যার পানি। জেলা-উপজেলার মূল সড়কগুলো থেকে পানি নামলেও ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়ক এখনো পানিতে প্লাবিত।  
পানি নামার পর নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। এর মধ্যে ডায়রিয়াসহ পেটের পীড়াই বেশি, সঙ্গে রয়েছে চর্মরোগ।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, জেলার দু-তিনটি উপজেলায় এখনো পানি আছে। তবে সব জায়গার পরিস্থিতিই উন্নতির দিকে। ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত আছে।
 
এদিকে বরাদ্দও অপ্রতুল বলছেন স্থানীয় প্রশাসনের অনেকেই। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, যে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সে সবই সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা শতভাগ বিতরণ করতে পারেননি। ত্রাণ যেন দ্রুততার সঙ্গে মানুষের হাতে পৌঁছায়, সেটা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এখনো ত্রাণের জন্য মানুষ বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হচ্ছে, ছুটছে। স্থানীয়  ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ত্রাণের আশায় শত শত মানুষ ফটকে ভিড় করে প্রতিদিন। অনেকে ত্রাণ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যায়।

স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বন্যা কবলিত এলাকায় মাথাপিছু বরাদ্দ ৬৪৫ গ্রাম চাল ও ১০ টাকা। সরকারি হিসাবে, সিলেট জেলায় বন্যায় ৪ লাখ ১৬ হাজার ৮৫১টি পরিবারের ২১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৫১ জন প্লাবিত হয়েছে। এর বিপরীতে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ১ হাজার ৪১২ মেট্রিক টন চাল, ১৩ হাজার ২১৮ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ বানভাসিরা মাথাপিছু ৬৪৫ গ্রাম চাল বরাদ্দ পেয়েছে। অন্যদিকে একেকজন বানভাসির বিপরীতে প্রায় ১০ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

তবে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের জন্য এমন বরাদ্দ অপ্রতুল এবং এটা রীতিমতো উপহাস বলে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী। বন্যার সুযোগ নিয়ে যারা নিত্যপন্যের দাম বাড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে বলেছেন।

সিলেট সদর উপজেলার স্থানীয় বাজারগুলোতে দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপণ্য ও সবজির দাম অনেকটাই বেড়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতি কেজি সবজি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। প্রতি কেজি মুড়ি বন্যার আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোমবাতি, চিড়া, গুড়সহ বিভিন্ন পণ্য ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো দাম হাঁকাচ্ছেন। নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ, কিন্তু এ বিষয়ে প্রশাসনের জোরালো ভূমিকা নেই।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, বন্যার সুযোগ নিয়ে কেউ যেন দাম বাড়াতে না পারেন, এটা নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির খবর পাওয়া গেলে অভিযান চালানো হয়।

news24bd.tv/আরিফ