যে পাঁচ কারণে বদলে গেছে অস্ট্রেলিয়া
যে পাঁচ কারণে বদলে গেছে অস্ট্রেলিয়া

সংগৃহীত ছবি

যে পাঁচ কারণে বদলে গেছে অস্ট্রেলিয়া

অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় চলছে আদমশুমারি। অবশেষে সেই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে, দেশটির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, ২০২১ সালে দেশটির জনসংখ্যা বেড়েছে দুই কোটি ৫৫ লাখ।

সেই সঙ্গে বেড়েছে গড় আয়ও। এ সময়ে হয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন।

কিন্তু কী এই কারণ? যে পাঁচটি কারণে এ পরিবর্তন হয়েছে তা জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে। সেগুলো হল:

১. ধর্মীয় পরিবর্তন
অস্ট্রেলীয় ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিক্সের (এবিএস) তথ্য মতে, দেশটিতে বর্তমানে মোট জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। যা ৫০ বছর আগে ছিল ৯০ শতাংশ। আর ধর্ম ছাড়া মানুষের সংখ্যা ৩৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবুও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ। দেশটিতে মুসলিম ও হিন্দুদের সংখ্যা দ্রুত হারে বাড়ছে। তবুও তা মোট জনসংখ্যার মাত্র তিন শতাংশ।

২. বৈচিত্র্যতা
অভিবাসীরাই আধুনিক অস্ট্রেলিয়া গড়ে তুলেছে। বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই অভিবাসী। তবে করোনা মহামারির সময়ে দেশটিতে অভিবাসী প্রত্যাশীর সংখ্যায় ভাটা পড়ে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ লাখের বেশি অভিবাসী অস্ট্রেলিয়ায় এসেছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই ভারতীয়। জন্ম হারের দিক থেকে চীন ও নিউজিল্যান্ডকে পেছনে ফেলে শীর্ষ অবস্থানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত।  
২০১৬ সালের পর থেকে পাঁচ জনের মধ্যে একজন অস্ট্রেলীয় নাগরিক নিজ বাড়িতে চীনা কিংবা আরবি ভাষায় কথা বলছে। যা সর্বজনীন ইংরেজির থেকে বেশি।

৩. আদিবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধি
গত আদমশুমারির সময় থেকে অস্ট্রেলীয় আদিবাসীর সংখ্যা এক চতুর্থাংশ বেড়েছে। এবিএস বলছে, আদিবাসীদের মধ্যে যেভাবে জন্মহার বেড়েছে ঠিক সেভাবেই তারা নিজেদের পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে।
বর্তমানে মোট আদিবাসীর সংখ্যা আট লাখ ১২ হাজার ৭২৮ জন। যা মোট জনসংখ্যার তিন দশমিক দুই শতাংশ।
আদমশুমারির তথ্য মতে, বর্তমানে দেশটিতে ১৬৭টি আদিবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে। যার মধ্যে ৭৮ হাজার আদিবাসী তরেস স্ট্রেইট আইল্যান্ড ভাষায় কথা বলে।
১৭৮৮ সালে ইউরোপীয়রা প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় আসে। ওই সময় দেশটিতে তিন লাখ ১৫ হাজার আদিবাসী থাকতো বলে ধারণা করা হয়। তবে রোগ, স্থানচ্যুতি ও সহিংসতার কারণে তাদের জনসংখ্যা কমতে থাকে।

৪. নতুন প্রজন্ম
জরিপের ফলাফলে নতুন প্রজন্মকে অস্ট্রেলিয়ার উন্নতির আরেক চাবিকাঠি হিসেবে বলা হচ্ছে। ১৯৮১-৯৫ সালে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্ম এখন দেশটিতে সর্বোচ্চ। যা মোট জনসংখ্যার ২১ দশমিক পাঁচ শতাংশ।  
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের জন্য নীতির অনেক পরিবর্তন হচ্ছে।  

৫. যাযাবর জীবনে আগ্রহ
আদমশুমারির তথ্য মতে, বেশিরভাগ অস্ট্রেলিয়ান যাযাবরের মতো জীবনে আগ্রহী হয়ে উঠছে। ২৫ বছরের আগের চেয়ে বর্তমান আবাসস্থলের খরচ অনেকাংশে বেড়েছে। বন্ধকী লোকের সংখ্যাও দ্বিগুণ হয়েছে।  
২০২২ এর জরিপ অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার শহরগুলোতে বাড়ি কিনে থাকা খুবই কষ্টসাধ্য। এর মূলে রয়েছে দাম বৃদ্ধি। এতে করে যাযাবরের মতো জীবনে আগ্রহী হয়েছে অস্ট্রেলিয়রা।

news24bd.tv/mamun