নিষেধাজ্ঞাকে অনেকেই অতিরঞ্জিত করে দেখছেন: মার্কিন রাষ্ট্রদূত
নিষেধাজ্ঞাকে অনেকেই অতিরঞ্জিত করে দেখছেন: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

সংগৃহীত ছবি

নিষেধাজ্ঞাকে অনেকেই অতিরঞ্জিত করে দেখছেন: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

অনলাইন ডেস্ক

র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে অনেকেই অতিরঞ্জিত করে দেখছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। তিনি বলেছেন, র‌্যাব ও কিছু কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে বিষয়টির জন্য দু’দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়েছে। কারণ, দুই দেশের সম্পর্কে এত বিস্তৃত ও ব্যাপক বিষয় নিয়ে সহযোগিতা রয়েছে, যেখানে এটি মাত্র একটি ইস্যু। মার্কিন গণমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিটার হাস এসব কথা বলেন।

 

র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে পিটার হাস বলেন, এটা স্পষ্ট, যেমনটি প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে রয়েছে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার। কাজেই বিষয়টি নিয়ে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং এর সঙ্গে র‌্যাবের সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ নিয়ে উদ্বেগের কারণে ২০১৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবকে যেকোনো ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়াও বন্ধ করে দেয়। আমরা বাংলাদেশে ইতিপূর্বে ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহি দেখতে চাই এবং ভবিষ্যতে র‌্যাব যেন এমন কিছু না করে সেজন্য বাহিনীটির সংস্কার চাই।  

২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এবং এর ছয়জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সে সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিলো, গুরুত্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকায় এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

সাক্ষাৎকারে পিটার হাস বলেন ,গত তিন মাসের দিকে তাকালে চমৎকার সব কার্যক্রম দেখতে পাবেন। এই তিন মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে যাতে অংশ নিতে আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড বাংলাদেশে এসেছিলেন, ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ নিরাপত্তা সংলাপ হয়েছে, হনুলুলুতে মিলিটারি পার্টনারশিপ ডায়ালগ হয়েছে এবং অতি সম্প্রতি ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের অর্থনৈতিক সংলাপ হয় । সুতরাং, ওই চার ক্ষেত্রে আমরা কতোটা নিবিড়ভাবে, কতোটা একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করছি বুঝাই যাচ্ছে।  

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যমের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে বলেন,গতিশীল গণতন্ত্রের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে বাংলাদেশে গণমাধ্যম চাপে রয়েছে। গণমাধ্যমসংক্রান্ত প্রস্তাবিত কিছু আইন সাংবাদিকদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন ও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া অবাধ ও মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।  

তিনি বলেন, সরকারে সাথে সরকারের সম্পর্ক গুরুত্বপুর্ণ কিন্তু ব্যবসা, শিক্ষা এবং পারিবারিক বন্ধন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই বছর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করে। ওয়াশিংটন ডিসিতে গত ৪ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ.কে. আবদুল মোমেন এবং সেক্রেটারি অফ স্টেট অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন বৈঠক করেন। সে সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বর্ষপূর্তিকে মাইলফলক চিহ্নিত করে সামনের বছরের জন্য তারা কর্মসূচি শুরু করেন।

news24bd.tv/আলী