পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা বৈধ হলেও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় : পরিকল্পনামন্ত্রী 
পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা বৈধ হলেও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় : পরিকল্পনামন্ত্রী 

বিজয়ী বিতার্কিকদের সঙ্গে অতিথিবৃন্দ 

পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা বৈধ হলেও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় : পরিকল্পনামন্ত্রী 

অনলাইন ডেস্ক

‘এবারের বাজেটে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার সুযোগ আইনগতভাবে বৈধ করা হলেও নৈতিকভাবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে আইনের বৈধতা দিয়েও তা পুরোপুরি ফেরত আনা সম্ভব নয়। চুরি করা টাকা ফেরানোর জন্য পাচার করেনি পাচারকারীরা। তাই পাচারকৃত অর্থের খুব সামান্যই দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে এক শ্রেণির মানুষের নিকট প্রচুর টাকা রয়েছে, যে টাকা নানাভাবে পাচার হচ্ছে। যেসব দেশে টাকা পাচার করা হয় সে সব দেশের সরকার অর্থের বৈধতা যাচাই না করেই তা বিনিয়োগের সুযোগ করে দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে দেশে কিছু টাকা ফেরত আসলে অসুবিধা কোথায়? তাই পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত মন্দের ভালো। সরকার বিশেষ কোন গোষ্ঠীর স্বার্থ সিদ্ধির জন্য কাজ করছে না। ’ 

আজ শুক্রবার (১ জুলাই) এফডিসিতে এবারের বাজেট নিয়ে এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। অনুষ্ঠানটি আয়োজক ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, গত ২ বছর ধরে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব করোনায় আক্রান্ত। ব্যবসা বাণিজ্য জীবন-জীবিকা ছিলো প্রায় অচল। তারপরেও কিভাবে, কাদের সহযোগিতায় অর্থপাচারকারীরা বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সুইস ব্যাংক, দুবাই, সিঙ্গাপুর, কানাডায় পাচার করলো তা খতিয়ে দেখা জরুরী।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় সংসদে যখন এই বাজেট পাশ হচ্ছে তখন সিলেট, সুনামগঞ্জ সহ দেশের কয়েকটি জেলা বন্যার পানিতে ভাসছে। চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে কয়েক লাখ মানুষ। বানভাসি এসব প্রান্তিক মানুষের পুর্নবাসনের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেখা যায়নি এই বাজেটে। দুর্যোগ মোকাবিলায় এবারের বাজেটে মোট বরাদ্দের মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। অথচ দেশের সার্বিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় মোট বাজেটের ৩ থেকে ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন ছিলো।

প্রতিযোগিতায় সরকারি তিতুমীর কলেজকে পরাজিত করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ছায়া সংসদে বিচারক ছিলেন উন্নয়ন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক রিজভী নেওয়াজ, সাংবাদিক কাবেরী মৈত্রেয় ও সাংবাদিক আরিফুর রহমান। ছায়া সংসদে মক স্পিকার হিসেবে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক।

news24bd.tv/desk