জুনের সড়কে ৪২ শতাংশ মৃত্যুই বাইক দুর্ঘটনায়
জুনের সড়কে ৪২ শতাংশ মৃত্যুই বাইক দুর্ঘটনায়

প্রতীকী ছবি

জুনের সড়কে ৪২ শতাংশ মৃত্যুই বাইক দুর্ঘটনায়

অনলাইন ডেস্ক

চলতি বছরের জুন মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৬৭টি। এর মধ্যে নিহত হয়েছে ৫২৪ জন এবং আহত ৮২১ জন। রোড সেইফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, জুন মাসেই ১৯৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০৪ জনের প্রাণ গেছে সড়কে। সোমবার (৪ জুন) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জুন মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতের মধ্যে নারী ৬৮, শিশু ৭৩। ১৯৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২০৪ জন, যা মোট নিহতের ৩৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪২ দশমিক ১৮ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১০৭ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ২০ দশমিক ৪১ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৮৬ জন, অর্থাৎ ১৬ দশমিক ৪১ শতাংশ।

এই সময়ে ৮টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ১৬ জন আহত হয়েছে এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। ১৮টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছে।

৭টি জাতীয় দৈনিক,৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংগঠনটি।

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় জুন মাসে প্রতিদিন গড়ে ১৭ দশমিক ৪৬ জন নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ৪১৩ জন, অর্থাৎ ৭৮ দশমিক ৮১ শতাংশ।

ট্রাকসহ পণ্যবাহী দ্রুতগতির যানবাহন ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ড্রাইভারদের বেপরোয়া গতিতে পণ্যবাহী যানবাহন চালানো এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর কারণে তারা নিজেরা দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে এবং অন্যান্য যানবাহনকে আক্রান্ত করছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। গণপরিবহন সহজ, সাশ্রয়ী ও উন্নত করে, যানজট কমিয়ে মোটরসাইকেল নিরুৎসাহিত করা অতীব জরুরি বলে মনে করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন নিহত। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ১৩টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত। একক জেলা হিসেবে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ২৯টি দুর্ঘটনায় ৪১ জন নিহত। সবচেয়ে কম রাঙামাটি, মাগুরা, লালমনিরহাট ও সুনামগঞ্জ জেলায়। এই ৪টি জেলায় ৯টি সাধারণ মাত্রার দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। রাজধানী ঢাকায় ১৪টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে রয়েছে, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ ২৬ দশমিক ২২ %, ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-তেলবাহী ট্যাংকার-প্রিজনভ্যান-সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী ট্রাক ৪ দশমিক ২৮ %, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ-পুলিশ পিকআপ, আর্মি ট্রাক ৩ দশমিক ৬৫ %, যাত্রীবাহী বাস ৯ দশমিক ৮৩ %, মোটরসাইকেল ২৬ দশমিক ৭৩ %, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটো ভ্যান-লেগুনা-হিউম্যান হলার) ১৮ দশমিক ৭৮ %, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন-(নসিমন-ভটভটি-টমটম-মাহেন্দ্র-চান্দের গাড়ি) ৬ দশমিক ৪৩ %, বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-প্যাডেল ভ্যান ২ দশমিক ৯% এবং অন্যান্য (ডাম্পার-ড্রামট্রাক-রোড রোলার-ইটভাঙার গাড়ি) ১ দশমিক ১৩ %।
news24bd.tv/আলী