প্রেমিকাকে নিয়ে ছেলে উধাও, মাকে হত্যা, মূল আসামি গ্রেফতার
প্রেমিকাকে নিয়ে ছেলে উধাও, মাকে হত্যা, মূল আসামি গ্রেফতার

প্রতীকী ছবি

প্রেমিকাকে নিয়ে ছেলে উধাও, মাকে হত্যা, মূল আসামি গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক

ময়মনসিংহে প্রেমিকাকে নিয়ে ছেলে উধাও। এদিকে প্রেমিকের মাকে হাত-পা বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে আত্মগোপনে থাকা মূল আসামিদের গ্রেফতার করেছে পিবিআই।

গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে নারায়নগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানা এলাকা থেকে মামলার এক নম্বর আসামি খোকন মিয়া, কাজল ও নাসিমা আক্তার কনাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ময়মনসিংহ জেলা পিবিআই।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি খোকন মিয়া, কাজল ও নাসিমা আক্তার কনা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলেও জানানো হয়।

আজ বুধবার রাজধানীতে পিবিআই কার্যালয়ে এসব কথা জানানো হয়।  

পিবিআই জানায়, প্রেমের টানে গত ১৯ জুন ঘর ছাড়েন ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানাধীন চর ঈশ্বরদিয়া পূর্বপাড়ার মোঃ আব্দুর রশিদের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (২০) ও তার প্রেমিকা একই গ্রামের মেয়ে খুকি আক্তার (২০)। এ ঘটনায় এক নারীকে হাত-পা বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলের প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধে।  

খুকি আক্তারকে ফিরে পাওয়ার জন্য তার বাবা খোকন মিয়া, কাজল ও মা নাসিমা আক্তার কনা সিরাজুল ইসলামের বাবা আব্দুর রশিদ ও মা লাইলী বেগমকে চাপ দিতে থাকে। অন্যথায় তাদের দেখে নেবে বলে হুমকি প্রদান করে। ১০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও মেয়ে খুকি আক্তারকে ফিরে না পেয়ে তার বাবা খোকন মিয়া, কাজল ও মা নাসিমা আক্তার কনা অন্যান্য আসামীদের নিয়ে গত ২৮ জুন সকাল ৯টার দিকে ছেলের বাবা আব্দুর রশিদের বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ করতে থাকে।

আব্দুর রশিদের অনুপস্থিতিতে সকল আসামিরা তার স্ত্রী লাইলী আক্তারের মুখ চেপে ধরে হাত, পা বিদ্যুতের কালো তার দিয়ে বেধে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ আগুনে পুড়ে যায়।

ভুক্তভোগী লাইলী আক্তারকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক লাইলী আক্তারকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হতে ঢাকায় রেফার্ড করেন।

পরে লাইলী আক্তারকে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্রাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এ ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় ঘটনায় লাইলী আক্তারের স্বামী আব্দুর রশীদ বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস এই হত্যাকান্ডের খবরটি বিভিন্ন ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচার করা হয়।

বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত চাঞ্চল্যকর ও নৃশংসভাবে পুড়ে এই হত্যাকান্ডের সংবাদটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে অ্যাডিশনাল আইজিপি, পিবিআই বনজ কুমার মজুমদার, বিপিএম (বার), পিপিএম এর তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার জনাব গৌতম কুমার বিশ্বাস এর সার্বিক সহযোগীতায় পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলা আসামিদের গ্রেফতারের নিমিত্তে মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে।

ইতোমধ্যে থানা পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সহযোগী এজাহারনামীয় ৪নং আসামি জাহাঙ্গীর ও ৭নং আসামি আছমাকে গ্রেফতার করলেও মামলার মূল এজাহারনামীয় ১নং আসামি খোকন মিয়া, কাজল ও ২নং আসামি নাসিমা আক্তার কনা সুচতুরভাবে নিজেদের আত্মগোপন করে রাখে।

ছায়া তদন্তের এক পর্যায়ে পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলার চৌকস টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি টিমের সহযোগীতায় গত ০৫ জুলাই ৫টার দিকে নারায়নগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানা এলাকা হতে নৃশংস এই আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার আত্মগোপনে থাকা মূল ১নং আসামি খোকন মিয়া, কাজল ও ২নং আসামি নাসিমা আক্তার কনাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি খোকন মিয়া, কাজল ও নাসিমা আক্তার কনা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলেও জানানো হয়।  

news24bd.tv/রিমু