জয়ের জন্য তামিমদের প্রয়োজন ১৫০ রান
জয়ের জন্য তামিমদের প্রয়োজন ১৫০ রান

সংগৃহীত ছবি

জয়ের জন্য তামিমদের প্রয়োজন ১৫০ রান

অনলাইন ডেস্ক

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে গায়ানায় কার্টেল ওভারের দারুণ বোলিং করেছে বাংলাদেশ। সকালের বৃষ্টিতে মাঠ ভেজা থাকায় সোয়া দুই ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচ নেমে আসে ৪১ ওভারে। আউটফিল্ড ভেজা ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে  টসে জিতে ফিল্ডিং নিলেন টাইগার অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তার আর সিদ্ধান্তের সদ্ব্যবহার করেছেন বাংলাদেশি পেসাররা।

বিশেষ করে স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও পেসার শরীফুলে কুপোকাত ওয়েস্ট ইন্ডিজ।  চারটি উইকেট শিকার করেছেন শরীফুল, আর মিরাজ পেয়েছেন তিনটি। সঙ্গে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন অভিষিক্ত নাসুম আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। সবমিলিয়ে বাংলাদেশি বোলারদের দাপুটে পারফরম্যান্সে কার্টল ৪১ ওভারে ১৪৯ রান সংগ্রহ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দেড়শ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামবে তামিম বাহিনী।

ম্যাচ শুরুতে স্পিনজাদুতে নিজের প্রথম ওভারে কোনো রানই দেননি নাসুম আহমেদ। এরপর নিজের প্রথম ওভারেই মারকুটে ব্যাটার শাই হোপের স্টাম্প ভেঙে দেন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। শাই হোপকে রানের খাতাই খুলতে দেননি কাটার মাস্টার।  ১২তম ওভারে অবিশ্বাস্য এক ডেলিভারিতে কাইল মায়ার্সকে বোল্ড করেন দেন  মিরাজ। মায়ার্স থামেন ২৭ বলে ১০ রানে। ব্রান্ডন কিংকে নিয়ে শামারাহ ব্রুকস দলকে সামলে নিয়ে যাচ্ছিলেন ভালোই। কিন্তু ২১তম ওভারে গিয়ে ভেলকি দেখান পেসার শরীফুল।

পর পর দুই বলে তুলে নেন কিং ও ব্রুকসকে। শরীফুলের হ্যাটট্রিক চান্সটি মিস করে দেন রভম্যান পাওয়েল। ২১তম ওভারটি মেডেন ও দুই উইকেট শিকার করেছেন শরীফুল। ওভারের ৪র্থ বলটি স্টাম্পের উপর গুড লেন্থে করেন শরীফুল। যা তুলে মারতে গিয়ে মিডঅফে এনামুল হকের তালুবন্দি হন কিং। ৩১ বলে ৮ রান করে ফেরেন কিং। শরীফুলের পরের বলটি পয়েন্টে মারতে গিয়ে ঠিকভাবে খেলতে পারেননি ব্রুকস। উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানের গ্লাভসে ধরা পড়েন। শেষ হয় তার ৬৬ বলে ৩৩ রানের ইনিংস। ওভারের শেষ বল তথা হ্যাটট্রিক চান্সের ডেলিভারিটি পা বাড়িয়ে প্যাডে প্রতিহত করেন পাওয়েল। হালকা আবেদন করেন ফিল্ডাররা। তবে আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। তবে পাওয়েলকে বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে দেননি মিরাজ।

শরীফুলকে হতাশ করলেও মিরাজের ভেলকি থেকে বাঁচেননি এ ক্যারিবীয় ব্যাটার। ২৫.৩ ওভারে মিরাজের গুড লেন্থের বলটি টার্ন করে স্টাম্পে ঢোকে। পাওয়েল পরাস্ত হন। তার সামনের পায়ে লাগলে লেগ বিফরের আবেদন জানান মিরাজ।  আম্পায়ার উইলসন আঙুল তুলে দেন। কিন্তু পাওয়েল রিভিউ নেন। তবে রক্ষা হয়নি তার। রিভিউতে দেখা যায় লেগ স্টাম্প উড়ে যেত পাওয়েলের। ১১ বলে ৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন পাওয়েল। এ দুই বোলার পেস ও স্পিনজাদুতে ১০০ রান করার আগেই ৭ উইকেট হাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের। পুরানকে বোল্ড করে দেন মিরাজ। ২৪ বলে ১৮ রান করে সাজঘরে ফেরত গেছেন ক্যারিবীয় এই মারকুটে ব্যাটার।  

এরপর ৩১তম ওভারে সেই মিরাজের কীর্তিতে রানআউট হয়ে ফেরেন আকিল হোসেন। ১২ বলে মাত্র ৩ রান করতে পারেন আকিল। ৩১ ওভারে ৯৭ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এমন বিপর্যয়ে দলের হাল ধরতে চেষ্টা করেন রোমারিয় শেফার্ড ও গুডাকেশ মতি। কিন্তু ব্যর্থ হন তারা সেই মিরাজ ও শরীফুলের কারণে।

৩৪তম ওভারে ফের দুটি উইকেট তুলে নেন শরীফুল। প্রথম বলে আফিফের হাতে শেফার্ড আর ৪র্থ বলে মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মতি।  শেফার্ড ১৮ বলে ১৬ রান করেন আর মতি ১১ বলে ৭ রান। শেষ দিকে ফিলিপের ২২ বলে ২১ ও সিলিসের ২৩ বলে ১৬ রানের সুবাদে ১৪৯ রান পর্যন্ত যেতে পারে ক্যারিবীয়রা।

news24bd.tv/কামরুল

সম্পর্কিত খবর