শত্রুতা ও মিত্রতায় আল্লাহর সন্তুষ্টির বিবেচনা
শত্রুতা ও মিত্রতায় আল্লাহর সন্তুষ্টির বিবেচনা

প্রতীকী ছবি

শত্রুতা ও মিত্রতায় আল্লাহর সন্তুষ্টির বিবেচনা

জাওয়াদ তাহের 

সম্পর্ক ও দূরত্ব হওয়া উচিত আল্লাহর জন্য। কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা এবং দূরত্ব ও ঘৃণা হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য। নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে কারো প্রতি বিদ্বেষ ধারণা করা ভালো মানুষের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) আমাদের এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন।

প্রকৃত মুমিন : একমাত্র আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসলে অথবা ঘৃণা করলে প্রকৃত মুমিন হতে পারবে। মুআজ ইবনে আনাস জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দান-খয়রাত করে, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে (দান করা থেকে) নিবৃত্ত থাকে, আল্লাহর জন্য ভালোবাসে, আল্লাহ তাআলার জন্যই ঘৃণা করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বিয়ে করে, সে তার ঈমান সুসম্পন্ন করেছে। ’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৫২১)

আল্লাহর জন্য ভালোবাসার প্রতিদান জান্নাত : যারা একমাত্র আল্লাহর জন্য মানুষকে ভালোবাসে তাদের প্রতিদান জান্নাত। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে দিন আল্লাহর (রহমতের) ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন।

...সে দুই ব্যক্তি যারা পরস্পরকে ভালোবাসে আল্লাহর জন্য, একত্র হয় আল্লাহর জন্য এবং পৃথকও হয় আল্লাহর জন্য...। (বুখারি, হাদিস : ৬৬০)

ঈমানের স্বাদ : একমাত্র আল্লাহর জন্য ভালোবাসা, আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করা, এটি কোনো স্বাভাবিক বিষয় নয়; বরং এর জন্য প্রতিনিয়ত নিজে প্র্যাকটিস করতে হবে, মনের সঙ্গে লড়াই করতে হবে। আর যে ব্যক্তি নিজের মধ্যে এই গুণ ধারণ করতে পারবে সে-ই ঈমানের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করবে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, তিনটি গুণ যার মধ্যে বিদ্যমান, সে ঈমানের স্বাদ পায়—(১) যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) অন্য সব বস্তু থেকে বেশি প্রিয় (২) যে একমাত্র আল্লাহর জন্য কোনো বান্দাকে ভালোবাসে এবং (৩) আল্লাহ তাআলা কুফর থেকে মুক্তি প্রদানের পর যে কুফরিতে প্রত্যাবর্তনকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতোই অপছন্দ করে। (বুখারি, হাদিস : ২১)

আল্লাহর ভালোবাসা লাভ : শত্রুতা-মিত্রতা রবের জন্য হলে আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হবে। আর বলাই বাহুল্য যে ব্যক্তিকে আল্লাহ ভালোবাসবে তার আর কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, এক ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাক্ষাতের জন্য অন্য এক গ্রামে গেল। আল্লাহ তাআলা তার জন্য পথিমধ্যে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করলেন। সে ব্যক্তি যখন ফেরেশতার কাছে পৌঁছল তখন ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছ? সে বলল, আমি এ গ্রামে আমার এক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য ইচ্ছা করেছি। ফেরেশতা বললেন, তার কাছে কি তোমার কোনো অবদান আছে, যা তুমি আরো প্রবৃদ্ধি করতে চাও? সে বলল, না। আমি তো শুধু আল্লাহর জন্যই তাকে ভালোবাসি। ফেরেশতা বললেন, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে (তার দূত হয়ে) তোমার কাছে অবহিত করার জন্য এসেছি যে আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসেন, যেমন তুমি তোমার ভাইকে তাঁরই সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ভালোবেসেছ। (মুসলিম, হাদিস : ৬৪৪৩)