পশ্চিমা আধিপত্য যুগের অবসান : টনি ব্লেয়ার
পশ্চিমা আধিপত্য যুগের অবসান : টনি ব্লেয়ার

সংগৃহীত ছবি

পশ্চিমা আধিপত্য যুগের অবসান : টনি ব্লেয়ার

অনলাইন ডেস্ক

আধুনিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রাচ্যর পশ্চিমের সাথে পূর্বের অবস্থান সমান হতে পারে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের বিশ্বব্যাপী আধিপত্য শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।

করোনা মহামারী এবং ইউক্রেনের সংঘাতের প্রভাবের কারণে, ‌‌‌‘পশ্চিমা জনসংখ্যার একটি বড় অংশের, জীবনযাত্রার মান স্থবির হয়ে পড়েছে' ব্লেয়ার শনিবার ডিচলি ফাউন্ডেশনে তার বার্ষিক বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

পশ্চিমা রাজনীতি অশান্তিতে আছে এবং সেটি আরও পক্ষপাতমূলক, কুৎসিত, অনুৎপাদনশীলতার দিকে যাচ্ছে।

যা সোশ্যাল মিডিয়ার দ্বারা উজ্জীবিত। যা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় বিষয়েই প্রভাব ফেলে জানিয়ে টনি ব্লেয়ার বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান পশ্চিমাদের মিশনের অনুভূতিকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি মূল বিন্দু হওয়া উচিত।

১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্য শাসন করা ব্লেয়ারের মতে, এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন রাশিয়া নয় চীন থেকে আসবে।  

ব্লেয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, আমরা পশ্চিমা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের অবসানের পথে আছি। বিশ্ব কমপক্ষে দ্বি-মেরু এবং সম্ভবত বহু-মেরু হতে চলেছে। চীন ইতিমধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় পরাশক্তি, পশ্চিমাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং করবে। শুধু ক্ষমতার জন্য নয়, আমাদের ব্যবস্থা, আমাদের শাসন ও জীবনযাপনের পদ্ধতির বিরুদ্ধেও। বেইজিং কখনও একা থাকবে না তার আরও মিত্র হবে, যার মধ্যে রাশিয়া নিশ্চিত মিত্র আর ইরান সম্ভব্য মিত্র।  

ইউক্রেনের ঘটনাগুলি এটি পরিষ্কার করেছে আমরা যেভাবে যুক্তিযুক্ত বিবেচনা করব সেভাবে আচরণ করার জন্য চীনা নেতৃত্বের উপর নির্ভর করতে পারে না। আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমি নিকট মেয়াদে বলছি না যে চীন জোর করে তাইওয়ানের দখল করার চেষ্টা করবে। কিন্তু আমরা নিশ্চিত করতে পারি না যে এটি হবে না যোগ করেন সাবেক এই বিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী।

নতুন পরিবেশে টিকে থাকার জন্য, পশ্চিমাদের একটি সাধারণ কৌশল তৈরি করতে হবে। যার সমন্বয়, প্রতিশ্রুতি এবং দক্ষতার সাথে অনুসরণ করতে হবে। উচ্চ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের সাথে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার সাথে সাথে তথাকথিত ‘দুর্বল শক্তি’ নির্মাণের মাধ্যমও বিস্তৃত করাতে হবে।

news24bd.tv/আলী