সালিশের নামে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপার অভিযোগ
সালিশের নামে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপার অভিযোগ

সালিশের নামে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপার অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর উপকূলীয় দুর্গম হাতিয়ায় এক ইউপি মেম্বার ও এক মহিলা মেম্বারের স্বামীর বিরুদ্ধে সালিশের নামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার বিকেলে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নবনীতা গুহ ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর জবানবন্দি নথিভুক্ত করেছেন। এরআগে দুপুরে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়।

গত ২৮ জুন রাতে হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রামে ধর্ষণ ও সালিশের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গত ১৩ জুলাই ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় মামলা করেন।

বাদীর অভিযোগ মামলার এজাহারে ধর্ষণের ঘটনায় পল্লী চিকিৎসক জহির উদ্দিনকে এবং সালিশের নামে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে ওই ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড  মেম্বার আব্দুল মালেক ফরাজী এবং ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার খালেদা আক্তারের স্বামী তাজুল ইসলামকে আসামি করা হলেও সালিশদারদের নাম বাদ দিয়ে পুলিশ নতুন এজাহারে তার সাক্ষর আদায় করে নেয়।

ভুক্তভোগী ওই কিশোরী জানান, গত ২৮ জুন রাতে তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হন। এ সময় চানন্দী বাজারের পল্লী চিকিৎসক জহির উদ্দিন তাকে মুখ চেপে ধরে বাগানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মালেক ফরাজী এবং ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার খালেদা আক্তারের স্বামী তাজুল ইসলাম তাকে, তার মাকে ও পল্লী চিকিৎসক জহির উদ্দিনকে ডেকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া কথা বলে উভয় পক্ষ থেকে সাদা স্ট্যাম্প সাক্ষর আদায় করে নেয়। পরে গভীর রাতে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে জহির উদ্দিনের ৭০ হাজার হাজার টাকা জরিমানা করে সালিশের রায় দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী সালিশদারদের এ রায় মেনে নিতে রাজি না হলে তারা এ বিষয়ে তাদের আর কিছুই করার নেই।

বাধ্য হয়ে গত ১৩ জুলাই কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় পল্লী চিকিৎসক জহির উদ্দিনকে এবং সালিশের নামে ঘটনা ধামাচাপান দেওয়ার ঘটনায় আব্দুল মালেক ফরাজী মেম্বার ও মহিলা মেম্বার খালেদা আক্তারের স্বামী যুবলীগ তাজুল ইসলামকে আসামি করে থানায় মামলা দেন ওই কিশোরীর মা। কিন্তু পুলিশ মামলার এজাহার থেকে সালিশদারদের নাম বাদ দিয়ে কেবল জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মামলার বাদী ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, 'আমি জহির, মালেক মেম্বার ও তাজুলকে আসামি করে থানায় মামলা দিয়েছি। কিন্তু মামলা রেকর্ডের সময় মালেক মেম্বার ও তাজুলকে বাদ দিয়ে মামলা নিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত দুই শালিসদারের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আমার মেয়েকে ধর্ষণকারী এবং সালিশের নামে আমাকে হয়রানি করেছে তাদের উপযুক্ত বিচার চাই। এছাড়া থানার হাট ক্যাম্পে এস.আই স্বপন কান্তি দে আমাদেরকে বলেন, 'আসামি ধরে দে তাহলে মামলা হবে'। এইভাবে আমাদেরকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন বাদী। বর্তমানে পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন তিনি।  

হাতিয়া থানার ওসি আমিরুল ইসলাম বলেন, 'মামলা দায়েরের পর রোববার ২৫০ শ্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। একই দিন বিচারক নবনীতা গুহ  তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। '

বাীর অভিযোগ অনুযায়ী এজাহার থেকে মালেক মেম্বার ও তাজুলকে বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে ওসি বলেন, 'পুলিশ কারো নাম এজাহার থেকে বাদ দেয়নি। মামলা তদন্তের এ ঘটনায় যার যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। '

অভিযুক্ত সালিশদার সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার খালেদা আক্তারের স্বামী তাজুল ইসলাম বলেন,  'ওই কিশোরী আমার আত্মীয় হয়। ঘটনাটি আমাকে জানানোর পর আমি ইউপি মেম্বার মালেক ফরাজীকে জানাই। তিনি সালিস করে জহিরের ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন এবং স্ট্যাম্পে সই নিয়েছেন। আমি এবিষয়ে একমত ছিলাম না। আমি মামলা করতে বলছি। '

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আবদুল মালেক ফরাজী বলেন, 'এলাকায় অনেক বিষয়ে সালিশ বিচার করতে হয়। তবে, গত কয়েক দিনের মধ্যে কোনো সালিশ বা জরিমানা করেছি বলে মনে পড়ছে না। ’

news24bd.tv/কামরুল