সন্তান হত্যার বিচারের দাবিতে কাঁদলেন বাবা
সন্তান হত্যার বিচারের দাবিতে কাঁদলেন বাবা

সন্তান হত্যার বিচারের দাবিতে কাঁদলেন বাবা

বাগেরহাটে সন্তান হত্যার বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক বাবা। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন করেন জেলার মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বৈদ্যমারি গ্রামের আনোয়ার ব্যাপারি। এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধ আনোয়ার ব্যাপারি তার মেয়ে হত্যার বিচারের দাবি জানান।  

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আনোয়ার ব্যাপারি বলেন, ‌‘প্রায় ১০ বছর আগে মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের গোরাবাসতলা গ্রামের সেকেন্দার শেখের ছেলে মহিদুল শেখের (৩০) সঙ্গে পারিবারিকভাবে আমার ছোট মেয়ে তাসলিমা বেগমের (২৫) বিয়ে হয়।

তাদের সংসারে সাব্বির (৭) নামের একটি ছেলে ও সামিয়া (৩) নামের একটি মেয়ে রয়েছে।  

বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় মহিদুল শেখ আমার মেয়েকে মারধর ও নানাভাবে অত্যাচর করত। এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয়ভাবে ও থানা পুলিশের মাধ্যমে কয়েকবার শালিস-বৈঠকও হয়েছে। তারপরও আমার জামাই ভালো হয়নি এবং পুনরায় আমার মেয়ের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে যেতে থাকে। ’ 

‘কিন্তু আমার মেয়ে তার অবুঝ দুটি সন্তানের কথা চিন্তা করে শত অত্যাচার নির্যাতন সয়ে সংসার চালিয়ে যেতে থাকে। এরই মধ্যে গত ১৪ জুলাই রাত ৮টার দিকে একই এলাকার মহিত ব্যাপারির মাধ্যমে জানতে পারি আমার মেয়ের লাশ মোংলা হাসপাতালে পড়ে আছে। বিষয়টি জানার পর আমি মোংলা হাসপাতালে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে শুনতে পারি, আমার মেয়ের লাশ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মোংলা থানায় গিয়ে দেখি, আমার মেয়ের হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারপিট ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তখন থানার দারোগা বাহারুলকে আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে জানাই এবং জামাই মহিদুল শেখ আটক করতে বলি। কিন্তু দারোগা বাহারুল আমার কথার কোনো গুরুত্ব দেননি। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর মাধ্যমেও জানতে পারি আমার মেয়েকে মারপিট করে হত্যা করা হয়েছে। আমার জামাই একজন মাদকসেবী ও পেশাদার জুয়াড়ি। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। ’

অভিযোগের বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, গৃহবধূ তাসলিমার পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার লাশ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

news24bd.tv/কামরুল