বিশ্বে পর্যটন শিল্পের অন্যতম আকর্ষণ ‘মালদ্বীপ’
বিশ্বে পর্যটন শিল্পের অন্যতম আকর্ষণ ‘মালদ্বীপ’

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বে পর্যটন শিল্পের অন্যতম আকর্ষণ ‘মালদ্বীপ’

আতাউর রহমান কাবুল

মহাসাগরের উষ্ণ জলে আনন্দের সঙ্গে সাঁতার কাটা, স্বপ্নীল আবহাওয়া ও সূর্যের গভীর রশ্মি পর্যটকদের আকর্ষণ করে যে দেশটি-তার নাম মালদ্বীপ। ২০২২ সালে ৫৭তম স্বাধীনতা দিবসে দেশটি তাদের পর্যটন শিল্পের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে। এজন্য চলতি বছর মালদ্বীপের জন্য একটি বিশেষ মাইলফলকের বছর।  

ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র মালদ্বীপ, যা বিষুব রেখা জুড়ে বিস্তৃত।

দেশটি ১১৯২টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত যার দৈর্ঘ্য ৮৭১ কিলোমিটার। মোট আয়তন আনুমানিক ৯০ হাজার বর্গকিলোমিটার হলেও শুষ্ক ভূমি মাত্র ২৯৮ বর্গকিলোমিটার। দ্বীপগুলোকে ২৬টি প্রবালপ্রাচীরের ডাবল চেইনে বিভক্ত করা হয়েছে। ১১৯২টি দ্বীপ থাকলেও মাত্র ২০০টি দ্বীপে জনবসতি রয়েছে। প্রবালপ্রাচীরের রিসোর্টগুলো পর্যটকগণ ব্যবহার করলেও কিছু কিছু দ্বীপ শিল্প ও কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।

পানির নীচে ভিন্ন জগৎ
মালদ্বীপের স্বচ্ছ পানির নীচে রয়েছে এক ভিন্ন জগৎ। রঙিন প্রবাল প্রাচীর, কচ্ছপ, তিমি, হাঙ্গর ঘেরা সে জগতের অভিজ্ঞতা অন্যরকম রোমাঞ্চকর। রয়েছে ক্ষুদ্র প্রাণবন্ত রিফ মাছ, মোরেঈল, টুনা সহ শত শত প্রজাতির মাছের সমাহার। এদের সাথে সামুদ্রিক কচ্ছপ, অক্টোপাস, স্কুইড, গলদা চিংড়ি ও ডলফিনের মতো অসংখ্য সামুদ্রিক প্রাণীর বসবাস। সমুদ্রের কিছু বড় মাছ, তিমি, হাঙরের সাথে সাঁতার কাটানোর সুযোগ পান পর্যটকরা। সে এক অন্য রকম অনুভূতি!

সংস্কৃতি
গ্রীষ্মমন্ডলীয় দ্বীপপুঞ্জ মালদ্বীপ। স্বচ্ছ পানির বিলাসবহুল ওভারওয়াটার ভিলার চিত্রগুলি বেশ ছন্দময়। এই দ্বীপ রাষ্ট্রটির নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে। এখানকার মানুষ ভাষা ও সংস্কৃতিতে বেশ সমৃদ্ধ। মাত্র অর্ধ মিলিয়নেরও বেশি লোক এখানে বসবাস করলেও রয়েছে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। ভারত মহাসাগরের চারপাশে বিভিন্ন সংস্কৃতিক গোষ্টি দ্বারা প্রভাবিত হলেও মালদ্বীপের সংস্কৃতি, নৈপুণ্য এবং ঐতিহ্যগুলি দ্বীপের পরিবেশকে অনন্য উচ্চতা দিয়েছে।
মালদ্বীপের প্রধান ভাষা ‘দিভেহি’। মালদ্বীপবাসীরা মূলত নৌকা নির্মাণ করতেন। এখানকার ঐতিহ্যবাহী নৌকা, ধোনির নানা আকৃতি রয়েছে যা সমুদ্রের বিভিন্ন পরিস্থিতির সাথে পুরোপুরি মানানসই। রন্ধনশিল্পের ঐতিহ্য মূলত মাছ ও নারকেলকে কেন্দ্র করে। বেশ কয়েকটি খাবারের সাথে এই অঞ্চলের মানুষের মিল রয়েছে।
এখানকার সঙ্গীত ও নৃত্য পূর্ব আফ্রিকা, আরব ও ভারতীয় উপমহাদেশে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। কারুশিল্পেরও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। বিশেষ করে কাঠের বার্ণিশ, অলঙ্করন, সূক্ষ্মভাবে বোনা খাগড়ার চাটাই এবং প্রবাল খোদাইয়ের মতো কারুকাজগুলো চলে এসেছে কয়েক প্রজন্ম ধরে।

দ্বীপের জীবনযাপন
আবহমানকাল ধরে দ্বীপবাসী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজনের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। পুরুষরা প্রধানত মৎস্যশিল্প, ছুতার কাজ ও টোডি তৈরিতে নিযুক্ত। নারীরা পরিবার গড়তে ও গৃহস্থালি কাজে নিয়োজিত ছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত। দীর্ঘ বছর ধরে  বিবাহের মতো বিশেষ অনুষ্ঠানগুলোতে কিছু আচার ও রীতি অনুসরণ করা হতো যেগুলো এখনো টিকে আছে। ১৯৭০-এর দশকে পর্যটনের আবির্ভাব দেশটির আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছিল।  

পরিবেশ ও প্রকৃতি
মালদ্বীপের দ্বীপগুলির মূল ভিত্তি হলো প্রবাল প্রাচীর যা প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসাবে ক্ষুদ্র দ্বীপগুলিকে সুরক্ষা প্রদান করে। দেশের অর্থনীতি নির্ভর করে প্রবাল প্রাচীর ও বাস্তুতন্ত্রের ভিত্তির ওপর।
মালদ্বীপের মূল্যবান সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার জন্য ইতিমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রীতিমতো আইন করে কিছু সামুদ্রিক প্রজাতি ও পাখি রক্ষায় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইকোসিস্টেম (বাস্তুতন্ত্র) সংরক্ষণ ও দেশের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য নিশ্চিত করার জন্য কিছু এলাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।  

যোগাযোগ ব্যবস্থা
মালদ্বীপ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভালভাবে সংযুক্ত। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া থেকে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট মালদ্বীপের প্রধান প্রবেশদ্বার ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দুবাই, দোহা, কলম্বো, ভারত সহ বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকটি নির্ধারিত ও চার্টার ফ্লাইট যাত্রী নিয়ে আসে। মালদ্বীপের জাতীয় বিমান সংস্থা মালদ্বীপ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা সরাসরি মালে এবং ঢাকার মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনা করে। ১২টি অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যে কোনটি দিয়ে ভ্রমণ করা যাবে যেখানে দৈনিক বেশ কয়েকটি ফ্লাইট পরিচালিত হয়।  
এখানে পর্যটকদের ৩০ দিনের ভিসা দেওয়া হয়। কোন পর্যটক রিসোর্টে ভ্রমণ করতে চাইলে আগেই সিট বুকিং দিতে হয়। বিমানবন্দরের আশেপাশের রিসোর্টগুলিতে স্পিডবোটের সাহায্যে যায় এবং আরও দূরবর্তী দ্বীপগুলিতে বিমানের মাধ্যমে যেতে হয়।

news24bd.tv/desk