যার কাছে বলবেন স্বপ্নের কথা 
যার কাছে বলবেন স্বপ্নের কথা 

প্রতীকী ছবি

যার কাছে বলবেন স্বপ্নের কথা 

আহমদ রাইদ

ঘুমের ঘোরে মানুষ প্রবেশ করে ভিন্ন জগতে। সে স্বপ্ন দেখে। স্বপ্নের জাল বোনে। স্বপ্ন মানুষকে কখনো আনন্দিত করে, আমোদিত করে, আবার কখনো তাকে ব্যথিত, চিন্তাগ্রস্ত ও ভীতসন্ত্রস্ত করে।

স্বপ্ন কখনো সত্য হয়, কখনো মিথ্যা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সত্য স্বপ্ন নবুয়তের ৪৬ ভাগের এক ভাগ। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৭২)

হাদিস শরিফে এসেছে : ‘স্বপ্ন দর্শনকারীর সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে স্বপ্নের সত্যাসত্য সম্পর্কিত। যারা বেশি সত্যবাদী, তাদের স্বপ্নও বেশি সত্য হয়। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪২০০)

প্রশ্ন হলো, কোন সময়ের স্বপ্ন অধিক সত্য হয়? হাদিসে এসেছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘শেষরাতের স্বপ্ন অধিক সত্য (প্রতিফলিত) হয়। ’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১১২৪০)

স্বপ্নের কথা সবাইকে বলা যায় না : স্বপ্নের ভালো-মন্দ প্রভাব আছে। কিন্তু সবাই তা বুঝতে পারে না। অনেকে না বুঝে যার-তার কাছে স্বপ্নের বিষয় বলে বেড়ায়। এতে সে নিজেই নিজের ক্ষতির পথ প্রশস্ত করে।

কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘স্বপ্নের ব্যাখ্যা যেভাবে করা হয়, সেভাবে তা বাস্তবায়িত হয়। তোমাদের কেউ যখন স্বপ্ন দেখে, সে যেন আলেম বা হিতাকাঙ্ক্ষী ছাড়া কারো কাছে তা বর্ণনা না করে। ’ (মুসতাদরাক হাকিম : ৪/৩৯১)

প্রখ্যাত স্বপ্নবিদ আল্লামা ইবনে সিরিন (রহ.) তাঁর ‘তাবিরুর রুইয়া’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন : ‘স্বপ্নের ব্যাখ্যাকারীদের জন্য কোরআনের তাফসিরের জ্ঞান, রাসুল (সা.)-এর হাদিস সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান, আরবি ও অনারব বিভিন্ন ভাষার শব্দের বিবর্তন সম্পর্কে অবশ্যই জ্ঞান থাকতে হবে। স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানার জন্য বুজুর্গ, সূক্ষ্ম জ্ঞানের অধিকারী ও সুসাহিত্যিক হওয়া জরুরি। এ ছাড়া যিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যাদানকারী হবেন, তাঁর সার্বিক অবস্থা ভালোভাবে জানা থাকতে হবে। সব সময় সত্য পথে চলতে হবে। তাহলে আল্লাহ তাআলা বিশেষ অনুগ্রহে তাঁকে সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন। তাঁর জবান (মুখ) সত্য ও নেক হতে হবে। এর ফলে আল্লাহ তাঁকে বিশেষভাবে সাহায্য করবেন। তাঁর চিন্তাও হতে হবে সৎ ও স্বচ্ছ। খাবার হতে হবে হালাল। মোটেও অনর্থক কথা বলা যাবে না এবং সব ধরনের পাপ থেকে নিষ্কলুষ হতে হবে। তাহলে তিনি জ্ঞানী ও নবীদের প্রকৃত উত্তরসূরি হিসেবে গণ্য হবেন। ’