পঞ্চগড়ের কলেজগুলোতে নেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি
পঞ্চগড়ের কলেজগুলোতে নেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি

সংগৃহীত ছবি

পঞ্চগড়ের কলেজগুলোতে নেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি

সরকার হায়দার, পঞ্চগড় 

পঞ্চগড়ের বিভিন্ন কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বেশ কমে গেছে। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় একসময় ক্যাম্পাসগুলো মুখরিত থাকলেও বর্তমানে তাদের আনাগোনা নেই বললেই চলে। এতে শিক্ষকরাও হতাশা ব্যক্ত করেছেন। শিক্ষানুরাগীরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফেরাতে না পারলে সামাজিক সংকট ঘনিভূত হবে।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, ক্যম্পাসে ঠিক মতো ক্লাস হয়না, তাই তারা ক্যাম্পাসে যায় না। প্রাইভেট পড়ে এবং অনলাইনে ক্লাস করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়।

দেশের উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে মোট ৩৮ টি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি কলেজ রয়েছে ৬টি। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন বলে জানা গেছে। মাত্র কয়েকবছর আগেও এসব কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের প্রচুর উপস্থিতি ছিলো। কিন্ত করোনা সংকটের পর থেকে উপস্থিতি কমে গেছে। সরকারি ২/৩টি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি হতাশাজনক।  

বিভিন্ন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষার্থী নানা কাজ-কর্মে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। বিশেষ করে ছাত্ররা উপার্জনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে বেশি। তারা চা বাগান, পাথর সংশ্লিষ্ট নানা কাজ, টেকনিক্যাল, অনলাইন, কৃষি,পরিবহন সহ বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত হয়ে অর্থ উপার্জেনই বেশি মনোযোগী। অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে আসছে না। অনেক শিক্ষার্থী ইন্টার্নেটে আসক্ত হয়ে পড়ার কারণেও ক্যম্পাসে যায় না। ক্যাম্পাসগুলোতে সুস্থ বিনোদন চর্চা নেই। নারী শিক্ষার্থীদের বিয়ে হয়ে যাবার কারণে তারাও ক্যাম্পাসমুখী নয়। শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঠিক মতো ক্লাস হয় না। শিক্ষকরা 
প্রায়শই উপস্থিত থাকেন না। তারা প্রাইভেট পড়ানো সহ নানা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন।  

স্নাতক সম্মান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাহা সাহাবুদ্দিন জানান, তার পরিবারের সবাই মাছের ব্যবসার সাথে জড়িত। সে এক বেলা নদীতে মাছ ধরে। বাজারে বিক্রী করে লেখাপড়ার খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকে সহযোগিতা করে। সে জানায়, বিজ্ঞানের ছাত্র হলেও ক্যাম্পাসে যাওয়া হয়না। রেগুলার ক্লাস হয়না। ক্যম্পাসে গিয়ে ফিরে আসতে হয়। তখন সময়টা বৃথা যায়। সে অনলাইনে দেশের শিক্ষকদের ক্লাসগুলো দেখে অথবা প্রাইভেট পড়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানায়।  

এদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছেন, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আনার জন্য শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। অভিভাবকদের সাথে কথা বলছেন। শিক্ষার্থীদেরকে ফোন করে ক্লাসে আসার নির্দেশনাও দেয়া হচ্ছে। কিন্তু তারা আসেন না। শিক্ষাক্রম অনুযায়ি একজন শিক্ষার্থীকে ক্লাসে ৮৫ ভাগ  উপস্থিত থাকার কথা । শিক্ষার্থী ক্লাসে না আসলে এই উপস্থিতি কাগজে কলমে দেখানো হচ্ছে। ভ

ভজনপুর ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ্য আব্দুল খালেক নিউজ টোয়েন্টফোরকে বলেন, দরিদ্রপ্রবণ পঞ্চগড়ের অধিকাংশ কলেজে জিপিএ কম পাওয়া শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়। সচেতন অভিভাবকরা এসব কলেজের শিক্ষার মানের অজুহাত তুলে তাদের সন্তানদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কলেজে ভর্তি করান। ফলে এমনিতেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। করোনা সংকটের পর ক্যাম্পাসগুলো প্রায় শুন্য হয়ে পড়েছে। কারণ অধিকাংশ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার জীবিকাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন বেশি।

তিনি আরো বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করেও ব্যার্থ হচ্ছি। অন্যদিকে পাঠ্যক্রমের সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করার কারণেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসেনা। শুধু ক্লাসের জন্য নয়, সামাজিক শিক্ষার জন্যও শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে আসা উচিৎ। শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘বন্ধু' সম্পর্কটি বিলিন হয়ে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী চেনেন না শিক্ষকদের। অনেক শিক্ষক ছাত্রকে চিনতে পারছেন না। ইন্টারনেট আসক্তির জন্য শিক্ষার্থীরা একা হয়ে যাচ্ছে। রাত জেগে নেট ব্যবহারের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে ঝিমিয়ে পড়ছে। ক্যম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীরা না আসলে সামাজিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করবে বলে তার আশঙ্কা।
 
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজাদ জাহান (শিক্ষা) নিউজ টোয়েন্টফোরকে বলেন, কাগজে কলমে আমরা তো শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ঠিকই পাই। কিন্তু ক্যম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য শিক্ষক, অভিভাবক, পরিচালনা কমিটিকে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষকে বারবার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।  

news24bd.tv/desk