১০ বছরে সুন্দরবনে বাঘ বেড়েছে ৮টি
১০ বছরে সুন্দরবনে বাঘ বেড়েছে ৮টি

বিশ্ব বাঘ দিবস

১০ বছরে সুন্দরবনে বাঘ বেড়েছে ৮টি

শেখ আহসানুল করিম, বাগেরহাট

বাংলাদেশ ও ভারতসহ বাঘের বসবাস এমন দেশগুলোতে বাঘের বংশ বৃদ্ধির অংঙ্গিকারের মধ্য দিয়ে শুক্রবার (২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস হয়েছে। বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশে ২০১৯ সালের ২২ মে সর্বশেষ ক্যামেরা ট্রাকিং জরিপে সুন্দরবনে ১১৪টি বাঘ রয়েছে।

এর আগের বাঘ জরিপে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘ ছিল ১০৬টি। এনিয়ে সুন্দরবনে ১০ বছরে বাঘ বেড়েছে ৮টি।

বনদস্যুরা আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও জলবায়ু পরিবর্তন ও চোরা শিকারীদের দৌরাত্ম রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘ এখনো সুন্দরবনে নিরাপদ নয়। সুন্দরবনে চোরা শিকারির পাশাপাশি বাঘের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হবার কারণে হুমকির মুখে রয়েছে বাঘ। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাড়ছে সমদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা।

এ অবস্থায় হারিয়ে যেতে পারে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার। ২০৭০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বাঘের জন্য কোনো উপযুক্ত জায়গা থাকবে না। কেননা, বিশ্বের তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধিসহ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সুন্দরবনে টিকে থাকা কয়েক শত বাঘ বিলীন হওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই অবস্থায় সুন্দরবনে বাঘের আবাসভূমি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এই অবস্থার মধ্যে ‘বাঘ আমাদের অহঙ্কার, রক্ষার দায়িত্ব সবার’ এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে শুক্রবার (২৯ জুলাই) বিশ্ববাঘ দিবস পালন করেছে সুন্দরবন বিভাগ।

ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড সুন্দরবনের বাংলাদেশের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার অংশে ২০০১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৫২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাভাবিক ভাবে মারা গেছে মাত্র ১২টি। লোকালয়ে ঢুকে পড়া ১৪টি বাঘকে পিটিয়ে মেরেছে স্থানীয় জনতা, একটি মারা গেছে ২০০৭ সালের সুপার সাইক্লোন সিডরে ও বাকী ২৫ বাঘ হত্যা করেছে চোরা শিকারিরা। অধিক মুনাফার আশায় বাঘের অঙ্গ-প্রতঙ্গ, চামড়া, হাড়, দাঁত, নখ পাচার ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।

আর এটি দেশ ও দেশের বাইরে চলে যেত চোরকারবারী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। ২০০৮ সাল থেকে এপর্যন্ত সুন্দরবন ও লোকালয়ে বাঘের হামলায় ২ শতাধিক মানুষ মারা যায় ও প্রায় এক শত জেলে-বনজীবী আহত হয়েছে বলে বন বিভাগ সুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তবে, সুন্দরবন বিভাগ বলছে, বর্তমানে সুন্দরবন সুরক্ষাসহ বাঘের প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ অবাধ চলাচলের জন্য গোটা সুন্দরবনের আয়তনের ২৩ ভাগ থেকে ৫১ ভাগ এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাঘের সংখ্যা বাড়াতে তাদের বিচরণ ও প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে প্রজনন মৌসুমের ৩ মাস পর্যটনসহ সব ধরনের বনজীবী সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। বর্তমানে সুন্দরবন পাহারায় স্মার্ট প্রেট্রোলিং টিম কাজ করছে । এতে করে বাঘের প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ বাঘ অবাধ চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব বাঘ দিবসে বাগেরহাটের শরণখোলা ও মোংলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত হয়েছে। মোংলায় বাঘ ও বাঘের আবাসস্থল সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তৃতায়

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপ্পার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, সুন্দরবন ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। বিগর ১০ বছরে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার কথা থাকলে তা হয়নি। ১০৬ টির জায়গায় বেড়ে হয়েছে ১১৪টি। ১০ বছরে বাঘ বেড়েছে ৮টি। যা হওয়ার কথা ২১৬টি। ৮টি বাড়ার বিষয় হলো নিয়মিত বংশ বৃদ্ধির কারণে হতে পারে। জরিপের ফলাফলেও অভিন্নতা আসতে পারে। বাঘের বংশতো এমনি এমনি বেড়ে যাবে না, সুন্দরবন যদি ভালো না থাকে তাহলে বাঘ বেড়ে গেছে সেটি বললেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না। আমরা তো দেখছি সুন্দরবন ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। কাজেই বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে কি পায়নি সেটি সুন্দরবন দেখলেই তো বোঝা যায়।

অন্যদিকে দিবসটি উপলক্ষ্যে শুক্রবার সকালে সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারের র‌্যালি ও আলোচনা সভা করেছে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ। স্থানীয় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নুর ই আলম সিদ্দিকী, শরনখোলা থানার অফিসার ইন চার্জ মো. ইকরাম হোসেন, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো, মোজাম্মেল হোসেন, শরনখোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইসমাইল হোসেন লিটন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ আকন, শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

news24bd.tv/তৌহিদ