রীতি ভেঙ্গে কাবা শরিফে পরানো হলো নতুন গিলাফ
রীতি ভেঙ্গে কাবা শরিফে পরানো হলো নতুন গিলাফ

সংগৃহীত ছবি

রীতি ভেঙ্গে কাবা শরিফে পরানো হলো নতুন গিলাফ

অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘদিনের রেওয়াজ পাল্টে পবিত্র কাবা শরিফের গায়ে নতুন গিলাফ পরানো হলো আজ। প্রতিবছর ৯ জিলহজ আরাফাতের খুতবার দিন গিলাফ পরিবর্তন করা হলেও এবার দীর্ঘদিনের সেই রেওয়াজ ভেঙে হিজরি বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা মহররম গিলাফ পরানোর দিন ধার্য করে সৌদি প্রশাসন।

মুসলিমদের পবিত্র দুই মসজিদ মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববী পরিচালনা পর্ষদের ঘোষণা অনুযায়ী আজ কাবায় গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। ইতোমধ্যে কাবা শরিফের গায়ে নতুন গিলাফ পরানো হয়েছে।

স্বর্ণ ও রূপায় খচিত গিলাফ তৈরিতে খরচ পড়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় অন্তত ৬৩ কোটি টাকা।

ঢাকায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারি বলেন, এবার রেওয়াজের ব্যতিক্রম করা হচ্ছে। কারণ সেদেশের সরকার হিজরি সনকে গুরুত্ব দিয়ে গিলাফ পরিবর্তন করার কথা বলেছে।

তিনি বলেন হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার দিনই হাজিদের উপস্থিতিতে গিলাফ পরিবর্তন করাটাই ছিলো দীর্ঘকালের রেওয়াজ।

হজের সময় নতুন গিলাফ দেওয়ার পর পুরনো গিলাফ সাধারণত মুসলিম দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা বিভিন্ন মুসলিম দেশের মসজিদকে উপহার হিসেবে দিয়ে সম্মানিত করা হতো। এবার কি করা হবে জানি না। কারণ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কোনো কিছু মুসলিম বিশ্বকে জানানো হয়নি।

গিলাফ কী? গিলাফ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
প্রতিবছর হজের সময় আল্লাহর ঘরে পড়ানো হয় নতুন চাদর। কিসওয়া নামে পরিচিত এই চাদর মূলত বিশেষ কালো কাপড়। যার ওপর নকশা করা হয় কোরআনের বিভিন্ন আয়াত। ফুটিয়ে তোলা হয় অন্যান্য নকশাও।

ইতিহাসের পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইসলাম পূর্ব সময়ে ইয়েমেনের বাদশাহ তুব্বা আবি কারব আসাদ সর্বপ্রথম কাবা শরিফকে গিলাফ দিয়ে ঢাকেন। এজন্য তিনি ইয়েমেনের কাপড় ব্যবহার করেছেন। পরবর্তীতে মক্কা বিজয় হলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কাবাকে লাল ও সাদা কাপড়ে ঢেকে দেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে সাদা রংয়ের গিলাফ, লাল গিলাফ, হলুদ গিলাফ ও সবুজ গিলাফ ব্যবহার করা হয়েছে। আর এখন ব্যবহৃত হচ্ছে কালো গিলাফ।

কোথায় তৈরি হয় গিলাফ?
দ্য কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর ম্যানুফ্যাকচারিং দ্য কাবা কিসওয়া' কাবার গিলাফ প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান। ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এক লাখ বর্গমিটারের এই কমপ্লেক্স একসময় 'কিসওয়া ফ্যাক্টরি' নামে পরিচিত ছিল। পরে ২০১৭ সালে রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে এই নাম পরিবর্তন করে কমপ্লেক্সটির ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়।

গিলাফ তৈরিতে যা ব্যবহার করা হয়
৬৫৮ বর্গমিটারের গিলাফটি তৈরিতে ৬৭০ কেজি কালো রেশম ব্যবহার করা হয়। ৪৭টি কাপড়ের টুকরোকে বিশেষ মেশিনে সেলাই করা হয়। এরপর কালো গিলাফের গায়ে মেশিনের ছাপ দিয়ে লেখা হয় আল্লাহর নাম ও গুণাবলি।

আরব নিউজের তথ্য অনুযায়ী এরপর গিলাফটি গিল্ডিং অ্যান্ড এমব্রয়ডারি বিভাগে যায়। সেখানেই ক্যালিগ্রাফির ও শিল্পীরা গিলাফের চারদিকের সোনালি বেল্ট ও কাবার দরজার পর্দা তৈরি করেন।

২৩ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৫০ জনের বেশি দক্ষ শিল্পী তাতে কোরআনের আয়াত ও অন্যান্য দোয়া এমব্রয়ডারি করেন। এ কাজে একশ কেজি খাঁটি রুপা এবং ১২০ কেজি সোনার প্রলেপযুক্ত রৌপ্য সুতা ব্যবহৃত হয়। গিলাফে আরবি ভাষায় 'মক্কা আল-মুকাররম', চলতি সন এবং সৌদি বাদশাহর নাম যুক্ত করা হয়।

গিলাফ পরিবর্তনের সময় কারা থাকেন
গিলাফ তৈরি করার পর তা কাবা শরিফের চাবি-রক্ষক বনি শাইবা গোত্রের মনোনীত খাদেমের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর আরাফাতের দিন ৯ জিলহজ সবার সহযোগিতায় কাবা শরিফে নতুন গিলাফ জড়ানো হয়। গিলাফ পরিবর্তনের কাজে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির কার্যপরিচালনা পরিষদের তত্ত্বাবধায়ক নেতৃত্ব দেন। এ সময় সৌদি বাদশার প্রতিনিধিসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন।

পুরাতন গিলাফ কী করা হয়
কারা শরিফে নতুন গিলাফ পরানোর পর পুরাতন গিলাফ ঠিকভাবে টুকরো টুকরো করে প্রতিবছর বিভিন্ন মুসলিম সরকারপ্রধান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপহার দেওয়া হয়। কিন্তু এবার সেই রীতি ভেঙে ১ মহররম দিন ধার্য করা হয়েছে।

news24bd.tv/আলী