ভারতকে ছাপিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ এখন যে শিক্ষা নিতে পারে
ভারতকে ছাপিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ এখন যে শিক্ষা নিতে পারে

সংগৃহীত ছবি

ওয়াশিংটন পোস্টে অ্যান্ডি মুখার্জির বিশ্লেষণ

ভারতকে ছাপিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ এখন যে শিক্ষা নিতে পারে

অনলাইন ডেস্ক

ব্লুমবার্গের কলামিস্ট অ্যান্ডি মুখার্জি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি কলাম লিখেছেন। ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এই কলামে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রশংসা করা হয়েছে। প্রতিবেশী ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়  এবং ক্রয়ক্ষমতা বেশি উল্লেখ করে বাংলাদেশের বর্তমান ডলার সংকট নিয়ে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লেখক বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে।

অ্যান্ডি মুখার্জি লিখেছেন—করোনা মধ্যবর্তী সময়ে স্বাধীনতার ঠিক ৫০ বছর পর বাংলাদেশ একটি বড় পরীক্ষায় পাশ করেছে। গত বছর জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের সুপারিশ করেছে।

তার মতে, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এখন প্রতিবেশী ভারতের থেকে বেশি। কিন্তু আকস্মিক নিষ্ঠুর ধাক্কায় বাংলাদেশের এ উদযাপন কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ডলার ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ চেয়েছে।  লেখক প্রশ্ন রেখেছেন, এই অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা বাংলাদেশকে ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তোরণে লাইনচ্যুত করবে কিনা। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী ভারত থেকে বাংলাদেশ কিছু সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনার ক্লু পেতে পারে এবং শিক্ষা নিতে পারে।

অ্যান্ডির বক্তব্য, অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে প্রায় প্রতিটি স্বল্পোন্নত দেশে আর্থিক সংকট তৈরি হয়। ভারতেও এমনটি হয়েছিল। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ১৯৯০-৯১ সালে আমদানির জন্য ডলার সংকট তৈরি হয়েছিল। ওই সময় দিল্লিকে আইএমএফের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল। তখন ভারতের মাথাপিছু আয় ছিল ৩৯০ ডলার। মাত্র ১০ ডলার বৃদ্ধি অর্থাৎ ৪০০ ডলারের জন্য ভারতকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। দীর্ঘ সময় লাগার অন্যতম কারণ ছিল—স্থিতিশীলতার ৩ বছরেও ভারতের ব্যাংকিং সিস্টেমের এক চতুর্থাংশ কাজ করছিল না।

ভারত থেকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় শিক্ষা নিয়ে অ্যান্ডি মুখার্জি বলেছেন, অর্থনীতির জন্য দুর্বল বছরকে সংস্কারের কাজে ব্যবহার করতে হবে যেটা অর্থনীতিকে নতুন করে প্রবৃদ্ধি দেবে। এক্ষেত্রে ভারত যা করেছিল তা হলো, ব্যবসায় বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা, শিল্পে লাইসেন্স ছাড় করা এবং বৈশ্বিক মূলধনে স্থানীয় শিল্প শুরু করা। এসব উদ্যোগ ভারতের মাথাপিছু আয় চারগুণ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করেছিল। ১৯৯৬ সালে যেখানে ভারতের মাথাপিছু আয় ছিল ৪০০ ডলার, ২০১২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১৫শ ডলার।

উল্লেখিত সময়ে বাংলাদেশেরও প্রবৃদ্ধি হচ্ছিল মন্তব্য করে অ্যান্ডি লেখেন, এক দশক আগেও বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১ হাজারের কিছু বেশি ছিল। সেখানে গতবছর সেটা বেড়ে ২৬শ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ভারতের থেকে বেশি। বাংলাদেশের ক্রয়ক্ষমতাও এখন ভারত থেকে ৪ শতাংশ বেশি।

কলামের শেষদিকে অ্যান্ডি মুখার্জি পুনরায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির তুলনা টেনেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বে নিম্ন দক্ষ শ্রমিকের তৈরিকৃত রেডিমেট গার্মেন্টস রপ্তানি করছে। সেখানে ভারত সুনিপুণ সফটওয়্যার, আউটসোর্সিং এবং শত কোটি জনসংখ্যার কর্মশক্তি থেকে লাভবান হচ্ছে।

লেখক শেষে বলেছেন, আইএমএফের ঋণ বাংলাদেশের অর্থনীতি সংস্কারে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদরাও বলেছেন, ‘সুযোগ গ্রহণ করা উচিত’। তবে প্রতিবেশী ভারত থেকে নীতি নির্ধারণীদের বড় শিক্ষা হবে, ব্যাপকভিত্তিক মজুরি বৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির সুযোগ হাতছাড়া না করা।
 

news24bd.tv/আলী