ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর নিয়ে চীনের কড়া প্রতিক্রিয়া

ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর নিয়ে চীনের কড়া প্রতিক্রিয়া

আসমা তুলি

তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের দ্বন্দ্ব চলছে অনেক দিন ধরেই। তবে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর নিয়ে চীন অভাবনীয় কড়া প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। এই প্রতিক্রিয়া এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চীনের ঘোর সমালোচক পেলোসির তাইপে সফর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন যুদ্ধে জড়াতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ইস্যুতে দুই-দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ না হলেও, চলমান সংকট দীর্ঘ মেয়াদে আরও গভীর হবে।

চীনের হুঁশিয়ারির মধ্যেই গত রোববার থেকে এশিয়া সফর শুরু করেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। তবে তার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, তিনি তাইওয়ান সফরে যাবেন কি না, তা স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। ফলে বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন ডালপালা মেলে। সেই সঙ্গে বাড়ে চীনের ক্ষোভ এবং হুঁশিয়ারি।

বিশেষজ্ঞদের মতে এর কয়েকটি কারণও আছে। ১৯৯১ সালে বেইজিং সফরে গিয়ে পেলোসি ১৯৮৯ সালে বেইজিংয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতদের প্রতি সম্মানসূচক ব্যানার প্রদর্শন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অজুহাতে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত অলিম্পিক গেমসের আয়োজন থেকে চীনকে বিরত রাখার চেষ্টা করেন পেলোসি। তাছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে কমলা হ্যারিসের পর ন্যান্সি পেলোসির নামও উচ্চারিত হচ্ছে। তাই পেলোসির মতো জ্যেষ্ঠ মার্কিন রাজনীতিবিদের তাইওয়ান সফরে অস্বস্তি বাড়ছে চীনের।

কূটনৈতিক কারণে ন্যান্সির সফর নিয়ে মাথাব্যথা কম নয় বাইডেন প্রশাসনেরও। হোয়াইট হাউজও তাই এ বিষয়ে আপত্তি তোলে। সেই আপত্তি উপেক্ষা করেন পেলোসি।

এ ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করছে। কারণ তাইওয়ানের নিজস্ব সরকার ব্যবস্থা থাকলেও দেশটিকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে আসছে চীন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেলোসির তাইওয়ান সফরের পর যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বৈরীতা আরও তীব্র হবে।

পেলোসি এমন এক সময়ে তাইওয়ান সফর করছেন যখন বিশ্ব কোন নতুন সমস্যা চাইছে না। বরং চলমান নানান সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান আশা করছে। চীনের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সমস্যায় সৃষ্টি করছে।  

এরপরেও যদি যুক্তরাষ্ট্র উস্কানি অব্যাহত রাখে তবে চীন শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেও বলেও শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

news24bd.tv/কামরুল